নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বাঙালি জাতির চির প্রেরণা ও অবিস্মরণীয় একটি দিন হলো একুশে ফেব্রুয়ারি। জাতির জীবনে শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল, অহংকারে মহিমান্বিত চিরভাস্বর এই দিনটি। শুধু বাংলাদেশের নয়, এখন সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঠিক আগমুহূর্তে জামালপুরে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে জুতা পায়ে সদলবলে অনুষ্ঠান করলেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোজাফফর হোসেন।
জামালপুর সদর উপজেলার বটতলা উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঞ্চে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের এমপি মো. মোজাফফর হোসেনসহ অতিথি-শিক্ষক সবাই জুতা পায়েও ওঠেন। ভাষার মাসে এমন ঘটনায় অনেকে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন।

অনুষ্ঠান উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ তৈরী করা হয়। সেখানে মূল শহীদ মিনারটি কাপড় দিয়ে ঢেকে পেছনে ফেলা হয়। আর বেদিতে করা হয় মঞ্চ। অতিথিদের সামনে বিশাল টেবিল এবং চেয়ার দেওয়া হয়। পাশেই বক্তব্যের জন্যে মাইকের স্ট্যান্ড দেওয়া হয়। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে অনুষ্ঠানে আসেন প্রধান অতিথি জামালপুর ৫ (সদর) আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাফফর হোসেনসহ অতিথিরা। একে একে সবাই জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেন। বেদিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য লোকজনকেও জুতা পায়ে দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুর ৫ (সদর) আসনের এমপি মো. মোজাফফর হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আব্দুল জলিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ.কে আজাদ বাদল ও সদস্য মো. আবুল কায়ের খোকা মাস্টার, বাঁশচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল আলীম, সহসভাপতি মো. মাহামুদুল হাসান বাচ্চু, সহসভাপতি মো. শাহজাহান আলী, সহসভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

জামালপুরের ভাষা ও মুক্তিসংগ্রাম গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারিতে শদীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়া অন্য কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। জুতা নিয়ে শহীদ মিনারে পদচারণা করা ভাষা শহীদদের প্রতি অবমাননা এবং আইন অমান্য করা। যারা এ ধরণের আচরণ করবে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিৎ।’
জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আর সবাইতো সেখানে জুতা পায়ে দিয়ে উঠেছে, তাই আমিও উঠেছি।
বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বলেন, ‘প্রত্যেক বছরই সেখানে অনুষ্ঠান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সেখানে করা হয়েছে। প্রধান অতিথিরাই যদি উঠে, তাহলে আর কি করা।
জামালপুর ৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘সেটা যে শহিদ মিয়ান, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছি সেটা একটি ভাঙা মঞ্চ। কেউ যদি আমাকে বলতো, সেটা শহিদ মিয়ার, তাহলে আমি জুতা নিয়ে উঠতাম না। প্রয়োজনে আমি সেখান থেকে নেমে যেতাম।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৯/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
