নিজস্ব প্রতিবেদক।।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে নির্যাতনে অভিযুক্তদের শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ভুক্তভোগী কৃষ্ণ রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আলী শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষবর্ষের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম আলী ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার উপযুক্ত কারণসহ লিখিত জবাব আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সকল হল, অনুষদ ও বিভাগ কমিটির সকল নেতাকর্মীকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখা, গঠনতান্ত্রিক আদর্শিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিক বজায় রাখা ও স্মার্ট ক্যাম্পাসের উপযোগী স্মার্ট ছাত্ররাজনীতি বিনির্মাণে সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঘটনার এক সপ্তাহ পরে শোকজ করার কারণ জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, সেদিনের ঘটনার পর আমি জানতে পেরে কৃষ্ণ রায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সে সময় সরিও বলেছি। রুমের সমস্যাও সমাধান করে দিয়েছি। সেসময় সে বলেছিল সমস্যা নেই। পরে দেখছি পত্রপত্রিকায় মিডিয়ায় এনিয়ে কথা হচ্ছে, সেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এজন্য মনে হয়েছে সঠিক কারণটা আরও ভালো করে খোঁজ নেওয়া দরকার। তাই দেরিতে নোটিশ করা হয়েছে। কারো জন্য সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হোক সেটা চাই না।
গত রোববার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে কৃষ্ণ রায়কে মারধর করে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় তাকে মেরে শিবির বলে চালিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দুইদিন পর মঙ্গলবার ভুক্তভোগী প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কৃষ্ণ রায়ের বিভাগ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একইদিন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধের দাবিতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জোহা চত্বরে অনশন করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৯/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
