এইমাত্র পাওয়া

তিন পদে নিয়োগ দিতে ২২ লাখ টাকা নিলেন স্কুল সভাপতি

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ চুয়াডাঙার আলমডাঙ্গার এনায়েতপুর বাড়াদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক, পরীচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল হান্নান পছন্দের তিন প্রার্থীর কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এজন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গোপন রেখেই শুধুমাত্র পছন্দের প্রার্থীকে পাঠানো হয় প্রবেশপত্র। নিয়োগ স্থগিত ও ম্যানেজিং কমিটি বাতিল চেয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন ম্যানেজিং কমিটির ৪ জন অভিভাবক সদস্য।

এ ঘটনায় গত বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে যশোর শিক্ষা বোর্ড ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকসহ ৫টি দপ্তরে ৪ জন অভিভাবক সদস্য লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বরে এনায়েতপুর বাড়াদি আলহাজ্ব খোস্তার আলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষা গোপন রেখে অভিভাবক ৪ সদস্য একরামুল হক ,মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মোস্তাক আহমেদ স্বপন ও নিলুফা ইয়াসমিনের স্বাক্ষর করে নেয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপন রাখায় স্থানীয় কোন প্রার্থী অংশ নিতে পারেনি পরীক্ষায়। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নানের মেয়েসহ পছন্দের আরো ২ প্রার্থীকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে অভিভাকরা আরো উল্লেখ করেন, আমাদের অজান্তেই সভাপতি ২২ লাখ টাকা গ্রহণ করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। সভাপতি আব্দুল হান্নান একজন আদম ব্যবসায়ী। সে অত্যন্ত র্ধূত এবং চালাক প্রকৃতির মানুষ। নিয়োগের অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করে নাই। এখন এই সভাপতির সঙ্গে আমরা কাজ করতে রাজি নই। উক্ত বিদ্যালয়ের নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি বাতিলসহ নিয়োগ বানিজ্য করার কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য আবেদন করেন তারা।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য খন্দকার মোস্তাক আহমেদ স্বপন বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে শুনেছি। এ ব্যাপারে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করেছি। তারা অস্বীকার করেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন বলেন, যথাযথ নিয়মে নিয়োগ পরীক্ষা শেষে উত্তীর্ণদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অফিস সহায়ক পদে বিদ্যালয়ের সভাপতির মেয়ে দিলরুবা খাতুন, আয়া পদে সামিমা খাতুন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে সামাদ উত্তীর্ণ হয়। নিয়োগে কোন টাকা পয়সা লেনদেন হয়নি। কেউই আমার আত্মীয় নয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীকেই ডাকঘরের মাধ্যমে প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছিল।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছে তাদের অভিযোগ সত্য নয়। যোগ্যতা অনুযায়ী ও সঠিক নিয়মে পরীক্ষার কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুর রউব বলেন, গত বুধবার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদনের একটি অনুলিপি পেয়েছি। এরপরই অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ডাকা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি পক্ষ ফাঁসানোর জন্যে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার রনি আলম নুর বলেন, নিয়োগে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তবে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা অনুলিপি অনুযায়ী অবগত রয়েছি। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড খতিয়ে দেখবে। আমাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলে আমরাও বিষয়টি দেখবো।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/০২/২৩  


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.