এইমাত্র পাওয়া

এক পরীক্ষাতেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রফিকুল ইসলাম ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেছে। এবার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পালা। কম্পিউটার প্রকৌশলে তার লেখাপড়া করার ইচ্ছা। তাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে না হলে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেবে। এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববদ্যালয়েও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) তো আছেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা দেবে। এ জন্য তাকে গুচ্ছপদ্ধতিতে থাকা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে।

মন মতো বিষয় না মিললেও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। তার বাবা চাইছেন, ছেলে প্রকৌশলী হলেও মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় গ্রহণ করুক। দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করার পরেই জীবন ও জীবিকা নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটিতেই বিপাকে পড়ে গেছে। মোট কথা, পুরো দেশ ঘুরে তাকে উচ্চশিক্ষার এই যুদ্ধে অংশ নিতে হবে। যদিও দুই বছর ধরে ভর্তি ক্ষেত্রে কিছুটা ভোগান্তি কমেছে। ঢাবি, জাবি, চবি, রাবি, বুয়েট এই বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়া গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে বাংলাদেশে এই অবস্থা হলেও অন্যান্য দেশে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি জনপ্রিয় পরীক্ষা হচ্ছে সেট (স্ট্যান্ডারাইজড টেস্ট), জিআরই (গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন) ও জিম্যাট (গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট)। ভারতেও একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তারা এ পরীক্ষার নাম দিয়েছে কমন ইউনিভার্সিটি এনট্রান্স টেস্ট। দেশের শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা উচ্চশিক্ষার ভর্তির ক্ষেত্রে একটি সর্বজনীন পরীক্ষা চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে মেধাভিত্তিক সমন্বিত একটিমাত্র পরীক্ষায় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভর্তির কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে কবে থেকে এই নিয়মে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে জানানো হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো একটি সমন্বিত মেধা যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে একটি এন্ট্রান্স পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া হয়। গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা ও সাধারণ জ্ঞান- এসব বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। জাতীয়ভাবে একটি মেধা তালিকা করা হয়। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে এ ধরনের একটি পরীক্ষা চালুর জন্য স্টেকহোল্ডারদের জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

গুচ্ছ পদ্ধতি চালুতে এক দশক লেগেছে, এই পদ্ধতি চালু করতে কত সময় লাগতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এত সময় লাগবে না।

দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি ৭২টি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়া এখন গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পায়। গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তিতে দীর্ঘসূত্রতার নানা অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এই তিনটিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও কৃষিপ্রধান সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছেÑবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুয়েস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সময়ের আলোকে বলেন, কালবিলম্ব না করে একটিমাত্র সমন্বিত পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থীকে সাত জায়গায় গিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সিলেটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পরদিন আবার খুলনায় গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়।

তিনি বলেন, ৫০ কেজি ওজনের আমাদের বাচ্চাদের এই দৌড়াদৌড়ি করিয়ে কোনোভাবেই শারীরিকভাবে ফিট রাখা সম্ভব নয়।

অধ্যাপক কায়কোবাদ বলেন, সবচেয়ে মেধাবীরা মেডিকেলে পড়তে যায়। একটি পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করানো সম্ভব হলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন সম্ভব নয়। ঢাকা মেডিকেলের যদি কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে অন্য ক্ষেত্রে কেন সমস্যা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক অধ্যাপক ডা. এনায়েত করিম সময়ের আলোকে বলেন, মেডিকেল ভর্তিতে একটাই পরীক্ষা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

এটিকে মডেল হিসেবে নিয়ে একটিমাত্র ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা উচিত। এ সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া দরকার ছিল। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হচ্ছে। আবার এই পরীক্ষার ফলে কুষ্টিয়া মেডিকেলে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। কিংবা বেসরকারি কোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.