শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বরিশালের হিজলা উপজেলার চরপত্তনী ভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই শিক্ষিকা ক্লাস শেষে স্কুলের শিক্ষকদের কক্ষে না বসে পাশের বাড়িতে বসে পরের ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করেন। অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষকের নাম রফিকুল ইসলাম।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষিকা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ জানান। কল পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও পুলিশ।
ওই শিক্ষিকার দাবি, অন্য স্কুল থেকে বদলি হয়ে ২০২০ সালের ১২ মার্চ এই স্কুলে আসেন। যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক নানাভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করেন। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় ঝামেলায় পড়তে হয়নি। এরপর স্কুল খুললে আবারও উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। পরে শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করে ডেপুটেশনে ওই উপজেলার হরিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
তিনি জানান, গত ডিসেম্বরে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডেপুটেশন বাতিল করা হলে তাকে আবার চরপত্তনী ভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দিতে হয়। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওই স্কুলে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকে নানাভাবে প্রধান শিক্ষক তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আরেক সহকারী শিক্ষিকার মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি বিবাহিত এবং তার স্বামী ঢাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তা জানা সত্ত্বেও বিয়ের প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জানান, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রতিনিয়ত হয়রানির করার চেষ্টা চালান প্রধান শিক্ষক। যেকোনও বাহানায় গায়ে হাত দেন। এ কারণে তিনি ক্লাস শেষে শিক্ষকদের কক্ষে অপেক্ষা না করে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে অপেক্ষা করেন। আবার ক্লাসের সময় স্কুলে আসেন। এতেও ক্ষুব্ধ হন প্রধান শিক্ষক। সম্প্রতি তিনি গুজব ওঠান তার টাকা চুরি করেছে।
তিনি আরও জানান, গত বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) টাকা ও চাবি চুরি নিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়া করেন প্রধান শিক্ষক ও আরেক সহকারী শিক্ষিকা। তারা স্কুলের মধ্যে তাকে মারধর করেন। এ সময় দৌড়ে স্কুলের সামনের সড়কে বের হলে সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে স্কুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। একই সময় শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও জানান। বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গফফার বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছি। আমার অর্ধেক তদন্ত হয়েছে। অভিযোগকারীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তিনি লিখিত দেওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তাদের রিপোর্ট এবং আমার তদন্ত যাদের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই স্কুলের সব শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। এখানে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ওই শিক্ষিকার মানসিক সমস্যা রয়েছে। ঘটনার দিন আকস্মিকভাবে আমার ছবি তোলেন তিনি। এ নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অন্য শিক্ষকরা তার মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড খুলে দিতে বলেন। তাতে রাজি না হয়ে দৌড়ে স্কুল ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যান। এক পর্যায়ে ৯৯৯-এ ফোন দেন। পুলিশ ও শিক্ষা কর্মকর্তা এসে রাত ৮টা পর্যন্ত তদন্ত করেছেন। সেখানে আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, আমার মেয়ে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করে। আমার বয়স ৫৪ বছর। সেখানে কিভাবে আমি এ কাজ করতে পারি। এ থেকেই বুঝতে পারেন, তার মানসিক সমস্যার কারণেই আবোলতাবোল কথা বলছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৩/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
