সুস্থতার নিয়ামক স্বাস্থ্যকর খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

অনেককেই বলতে শোনা যায়, ‘খাওয়া ছাড়া জীবনে কী আছে, মরতে হলে খেয়েই মরব।’ আসলে কথাটা সঠিক নয়। শুধু খাওয়ার জন্যই বেঁচে থাকা নয়। বরং সুস্থভাবে বাঁচার জন্য দরকার স্বাস্থ্যকর খাবার। কেমন হতে পারে এই স্বাস্থ্যকর খাবার?

শর্করাজাতীয় খাবার : দেহের প্রাত্যহিক শক্তি চাহিদার বেশিরভাগই পূরণ হয় শর্করাজাতীয় খাদ্য থেকে। তবে একটু সচেতনভাবে এই গ্রুপের খাদ্য বাছাই করলে খাদ্যের চাহিদা মেটার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়। এ জন্য সাদা চালের বদলে লাল চালের ভাত, ময়দার বদলে লাল আটার তৈরি খাবার, লাল চালের চিঁড়া ও ওটসের মতো শর্করাকে বেছে নেওয়া ভালো।

আমিষজাতীয় খাবার : দেহ গঠনের প্রধান উপাদান আমিষ। তাই প্রতিদিন কিছু পরিমাণ আমিষজাতীয় খাবার অবশ্যই গ্রহণ করা জরুরি। দুধ, ডিম, মুরগির মাংস, চর্বি ছাড়া গরু বা খাসির মাংস, বিভিন্ন ধরনের ডাল, মটরশুটি, শিমের বিচি হতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত আমিষের উৎস। খেয়াল রাখতে হবে, খাদ্যতালিকায় যেন শুধু প্রাণিজ আমিষই নয়; বরং প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ উভয় আমিষকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার
দেহের তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের সুস্থতা রক্ষা, স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণ প্রভৃতি শরীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, খাদ্যতালিকায় যেন মাছের তেল, সূর্যমুখী তেল, তিসির তেল, জলপাইয়ের তেল, বিভিন্ন বাদাম প্রভৃতির মতো ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার প্রাধান্য পায়। সম্পৃক্ত চর্বি যেমনÑ ঘি, মাখন, লাল মাংসের চর্বি, অতিরিক্ত ভাজাপোড়াজাতীয় খাদ্য বাদ দিতে হবে।

ভিটামিনস ও মিনারেলস
শরীরকে সুস্থ ও নীরোগ রাখতে ভিটামিনস ও মিনারেলস বেশ জরুরি। বিভিন্ন রঙিন ফল ও শাকসবজি হতে পারে এর সবচেয়ে ভালো উৎস। তাই ভিটামিনস ও মিনারেলস সাপ্লিমেন্টের বদলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আম, জাম, লিচু, কমলা, কলা, বরই, পেয়ারা, আমলকী, পালংশাক, লালশাক, কচুশাক, ফুলকপি, ব্রকলি, বাঁধাকপি, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, লাউ, মিষ্টি কুমড়ার মতো মৌসুমি লাল, সবুজ, হলুদ ফল ও শাকসবজি রাখা আবশ্যক।

মসলা
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, আদা, গোলমরিচ, জিরার মতো মসলার ব্যবহার করা ভালো। এতে ক্যানসার, সাইনোসাইটিস, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধসহ ত্বকের নানা সমস্যা সমাধান করে। পাশাপাশি দেহের ব্যথা-বেদনা দূর করাসহ খাদ্যকে স্বাদ, গন্ধ এবং পুষ্টি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.