প্রাথমিক শিক্ষক পদায়নে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক পোস্টিংয়ে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম ৫০ জন শিক্ষককে তাদের পছন্দের বিদ্যালয়ে পোস্টিং দেওয়ার কথা থাকলেও বরগুনায় ঘটেছে উল্টো ঘটনা। অপেক্ষাকৃত নিচের মেধাক্রমে থাকা ব্যক্তিদের তাদের পছন্দ অনুযয়ী পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক ২০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে এসকল পোস্টিং দিয়েছেন।

আর এই অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই লাপাত্তা হয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার এবং অফিসের কেরানি।

সরেজমিনে দেখা যায় আবদুর রাজ্জাকের অফিসটি তালাবদ্ধ, বন্ধ রয়েছে তার অফিসিয়াল মুঠোফোন নম্বরটিও। এসময় অফিসের কেরানি নাসিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ কেরানির মাধ্যমেই ঘুষ দাবি ও গ্রহণ করতেন শিক্ষা অফিসার।

জানা যায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ২২ জানুয়ারি ৬০২ জন নতুন শিক্ষকের পোস্টিং দেন। পোস্টিং দেওয়ার আগে নির্ধারিত একটি ফরমে শিক্ষকদের কাছ থেকে পছন্দের ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যারা ঘুষ দিতে পারেনি তাদের ক্ষেত্রে পছন্দের তালিকা কোনো কাজে আসেনি। এমনকি ৫০ এর মধ্যে থেকেও পছন্দের বিদ্যালয় পাননি অনেক শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করে একাধিক নারী শিক্ষক জানিয়েছেন, তাদের ১৫-২৫ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় হয়তো তাদের পক্ষে চাকরি করা সম্ভব না-ও হতে পারে। ।

মরিয়ম রহমান লাবণী নামে ভুক্তভোগী এক নারী শিক্ষকের বাবা মজিবর রহমান হাওলাদার বলেন, তার মেয়ের কাছ থেকে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দ নিলেও তাকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বধূঠাকুরানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ভালো রাস্তা নেই এবং বাড়ি থেকে বর্ষা মৌসুমে ক্লাস করা কোনো ক্রমেই সম্ভব নয় সেখানে পোস্টিং দিয়েছে। তার দাবি, তিনি টাকা দিতে পারলে তার মেয়ের পছন্দের স্কুলে পোস্টিং হতো এবং যারা হাজার হাজার টাকা দিয়েছেন, তাদের পছন্দমতো পোস্টিং হয়েছে।

আবার, রাবেয়া বসরী মুনা নামে এক শিক্ষিকার বাসা বরগুনা পৌরসভার ডিকেপি সড়কে। তার মেধাক্রম ১২১ হলেও বাসার কাছে বরগুনা সরকারি কলেজ সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পোস্টিং পেয়েছেন। একইভাবে বরগুনা চরকলোনি সড়কে ইসরাত জাহানের বাসা। মেধাক্রম ১২৫ হলেও তাকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে পৌরসভার দক্ষিণ বরগুনা এ লথিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, কেরানি নাসির ও শিক্ষা কর্মকর্তা কোটি টাকার উপরে ঘুষ নিয়েছেন। পাঁচশ শিক্ষকের কাছ থেকে গড়ে ২০ হাজার টাকা করে নিলেও ১ কোটি টাকা হয়। এর সঙ্গে কয়েকজন প্রাইমারি প্রধান শিক্ষকও জড়িত।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাকের সাথে ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাজ করতে গেলে কিছু ভুল-ত্রুটি হতে পারে। তবে ঘুষের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি ৩ মাস আগে বরগুনায় যোগদান করেছি।” দুদিন ধরে ফোন ও অফিস বন্ধ করে কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “লোকজন ঝামেলা করে, যার কারণে মফস্বলে ছিলাম।”

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৯/২৩  


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.