অনিশ্চয়তায় তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহঃ জেলার নান্দাইল উপজেলায় রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটের কারণে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই তিন শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। বিদ্যালয়টিতে মানসম্মত শিক্ষার নিশ্চয়তা না পেয়ে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ছুটাছুটি করছেন।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ২০১৩ সালে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু করার অনুমোদন দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) থেকে এই বিদ্যালয়কে দেওয়া হয়েছে ইআইআইএন নম্বরও। তবে পাঠদান কার্যক্রম চালানোর জন্য এ বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও খন্ডকালীন শিক্ষকদের দিয়ে ৯ বছর ধরে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর আগে তাঁরা এই বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। পরে দুইজন শিক্ষককে প্রেষণে এই বিদ্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু তাঁরা বেশিদিন স্থায়ী হননি। এ অবস্থায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঠদান কার্যক্রম চালানোর জন্য দুইজন শিক্ষিত নারীকে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। খন্ডকালীন শিক্ষক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। চলতি বছর খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতনভাতা নিশ্চিত করতে না পারায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের মেয়াদ আর বাড়াননি।

ফলে উল্লিখিত তিনটি শ্রেণিতে পাঠদান কার্যক্রম চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শামছুল হাসান ও মিজানুর রহমান নামে দুইজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের অভাবে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাদের সন্তানদের অন্য কোথায় পড়ানো যায় তা নিয়ে চিন্তিত আছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এই বিদ্যালয় থেকে এত দিন কোনো শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাননি।

রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য কমপক্ষে আরও তিনজন শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে। অতিরিক্ত তিনটা ক্লাসের জন্য গত ৯ বছরে কোন শিক্ষক অথবা অবকাঠামো সুবিধা আমরা পাইনি। তবে বর্তমানে কয়েকজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন তাঁরা মাস্টার্স পাস।

তাঁদের দিয়ে ওই বিদ্যালয়ে তিনটি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব। আমি এসে এখানে দুটি পদ সৃষ্টি করেছি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২০/২৩  


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.