শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা এখনও সব বই পায়নি। ২০২৩ সালের প্রথম দিনে নতুন বই পাওয়ার আশায় স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রতিটি শ্রেণিতে অর্ধেকেরও কম বই দেওয়া হয় তাদের। এতে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে অনেক শিক্ষার্থী। ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
চলতি বছরে শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর জানুয়ারি মাসের অর্ধেক গেলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী সব বই হাতে পায়নি। বিভিন্ন শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী যতগুলো বই পাওয়ার কথা, তার চেয়ে কম বই পেয়েছে। মাধ্যমিকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বই কিছু পেলেও ৭ম শ্রেণির বই এসেছে আংশিক। ১২টি বইয়ের স্থলে মাত্র ৩টি করে বই দেওয়া হয়েছে।
নতুন বই দেওয়ায় পিছিয়ে আছে প্রাক-প্রাথমিক স্তরও। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে একটি বই পাওয়া গেছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৩টি করে বই হাতে পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে ৬৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আর মাদরাসা রয়েছে ৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে ২১ হাজার শিক্ষার্থী নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের। আর ৯ হাজার রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার্থী।
এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৩ প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ বই বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাল থেকে বাকি অংশ বিতরণ করা হবে।
মুন্সীরহাট আলী আজম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, তৃতীয় শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে উঠেছি। জানুযারি মাসের ১ তারিখ রোববার বই নিতে স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ৬টি বইয়ের পরিবর্তে ৩টি দিয়েছে। বাকি বই কবে দেবে সেটা জানাননি স্যারেরা। ওই বইগুলো না পাওয়ায় বিষয়গুলো পড়াতে সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মুন্সীরহাট আলী আজম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা বেগম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই ১টি করে পাওয়া গেছে। কিন্তু তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬টি বইয়ের মধ্যে তিনটি করে বই পাওয়া গেছে। আর যেসব বিষয়ে বই এখনো পাওয়া যায়নি, এজন্য সাময়িক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এটা অস্বীকার করার কিছু নেই।
ফুলগাজী উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ মুন্সীরহাট আলী আজম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহের মজুমদার বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ২০৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৯০ শতাংশ বই পাওয়া গেছে। এছাড়া ৭ম হতে ৯ম শ্রেণির প্রতিটিতে সমপরিমাণ শিক্ষার্থীর বই এসেছে আংশিক।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সানাউল্লাহ বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান উপজেলার ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭টি মাদরাসা ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ১১ হাজার শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ বই বিতরণ করা হয়েছে। চলতি মাসেই বই পাওয়া যাবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২০/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
