নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ এ বছর নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে প্রদানকৃত বইগুলো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বইগুলোতে ভুল থাকতে পারে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে কারো দ্বিমত, অস্বস্তি কিংবা আপত্তি থাকলে জানাতে হবে, আগামীতে সেগুলোর সংস্করণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বোপার্জিত স্বাধীনতার চত্বরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং একুশ শতকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
এসময় উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ ও নীলক্ষেত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভবাকদের থেকে ‘ফিডব্যাক’ নিয়ে নতুন শিক্ষাক্রমের বইগুলোর পরিমার্জন করা হবে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, মাধ্যমিকের ৩৩ হাজার প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক সংস্করণ বইগুলো দেওয়া হয়েছে। এবার ৬ষ্ঠ, সপ্তম ও প্রথম শ্রেণিতে যে বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে উঠেছে সেগুলোতে ভুল থাকতে পারে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে কারও দ্বিমত, অস্বস্তি কিংবা আপত্তি থাকতে পারে, সেগুলো যেন আমাদের জানানো হয়। প্রতিনিয়ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে সে অনুযায়ী বছরব্যাপী এগুলোকে পরিমার্জন-পরিশীলন করা হবে।
দীপু মনি বলেন, আমরা একটা সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেছি। কারণ এখন আমাদের সামনে ২০৩০ সালের যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যেটি আমাদেরও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। সেখানে যে ১৭টি লক্ষ্য রয়েছে তার ৪ নম্বর লক্ষ্য হলো শিক্ষা। আর এটি হচ্ছে সবকিছুর কেন্দ্রে। সেই শিক্ষার যদি আমরা মান অর্জন করতে পারি তাহলে বাকি যে ১৬টি লক্ষ্য আছে সেগুলো অর্জন করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার পথে যে বাধা আমরা তা নিরসনে কাজ করছি। আমরা মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের জন্য কাজ করছি। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় যে বিষয়গুলো আছে সেসব যেমন ভালোভাবে শিখবে তেমনি নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে আধুনিক শিক্ষাও নেবে।
সভাপতির বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের যে টোটাল বাজেট ছিল তার চেয়ে এই সরকারের শিক্ষা বাজেট বেশি রয়েছে। টেকনিক্যাল এডুকেশন-এ আগের সরকারের সময় মাত্র এক শতাংশ ছিল আর এখন ২০ শতাংশের কাছাকাছি। আমাদের লক্ষ্য হতে ৪০ শতাংশ টেকনিক্যাল শিক্ষার কাছাকাছি আসা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৪/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
