চেক ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানো সংবিধানের পরিপন্থী রায় স্থগিত

নিউজ ডেস্ক।।

‘চেক ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানো সংবিধানের পরিপন্থী’ হাইকোর্টের এমন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর এ বিষয় পরবর্তী শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো সংবিধানের পরিপন্থী বলে হাইকোর্টের যে পর্যবেক্ষণ ও রায় দিয়েছেন তা স্থগিত চেয়ে আপিল করা হয় গত ৫ সেপ্টেম্বর।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট চেক ডিজঅনার মামলার আসামিকে জেলে পাঠানো সংবিধান পরিপন্থী বলে রায় দেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা সংবিধান পরিপন্থী। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে বন্দি রাখা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণের নামান্তর।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত আরও বলেন, চেক ডিজঅনার মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো, কারাগারে রাখা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসের অনুচ্ছেদ ১১ এর পরিপন্থী। বাংলাদেশের মতো স্বাক্ষরকারী দেশ চেক ডিজঅনার মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠাতে পারে না।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত বলেন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চেক ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানোর বিধান নেই। এসব দেশে চেক ডিজঅনারের মামলাগুলোকে দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনে ১৯৯৪ সালে প্যানেল কোড সংযোজনের মাধ্যমে আধা-ফৌজদারি হিসেবে পরিণত করা হয়েছে।

একই মামলায় কারাগারে বন্দি রাখার প্রসঙ্গে আদালত বলেন, কনট্রাকচ্যুয়াল অব নেগোশিয়েশন বা চুক্তিগত দ্বায়-দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থতার জন্য কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে বন্দি রাখা যাবে না। চুক্তিগত দ্বায়-দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থতার জন্য যদি কারাগারে পাঠানো হয়, তাহলে অচিরেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ কারাগারে চলে যাবে। এটা কারও কাম্য নয়।

এ সময় আদালত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা সংশোধন করে চেক ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানোর বিধান বাতিল করার জন্য জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দেন। এছাড়া আদালত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত চেক ডিজঅনারের মামলা নিষ্পত্তির জন্য একটি গাইডলাইন করে দেয়। সেই সঙ্গে আদালত প্রত্যাশা করেছেন, জাতীয় সংসদ অতি দ্রুত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা সংশোধন করবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.