প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে নিখোঁজ শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধার

গাজীপুর মহানগরের গাছা মেট্রোপলিটন থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে জয়বাংলা সড়কের বগারটেক ব্রিজ এলাকা থেকে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন— টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন ও তার স্ত্রী আমজাদ আলী স্কুলের সহকারী শিক্ষিক জেলি আক্তার।

শিক্ষক দম্পতির ছেলে মো. মিরাজ জানান, টঙ্গীর কামারজুরি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে একই গাড়িতে করে শিক্ষক দম্পতি তাদের স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হন। স্কুল শেষে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু এর পর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা রাতভর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না তাদের। ভোররাতের দিকে গাছা থানা এলাকার বগারটেক ব্রিজের কাছ থেকে ওই গাড়ির ভেতর চালকের আসনে প্রধান শিক্ষক ও পাশের সিটে স্ত্রীর লাশ পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রথমে তাদেরকে স্থানীয় তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উত্তরার অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে প্রাথমিকভাবে তাদের দেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়নি।

গাজীপুর মহানগরীর গাছা মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দলাল চৌধুরী জানান, লাশ উদ্ধার শেষে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। ময়মনতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছে পুরো ঘটনাটিই রহস্যঘেরা মনে হচ্ছে। বিষক্রিয়া থেকে তাদের মৃত্যু কিনা কিংবা পূর্বশত্রুতাবশত হত্যাকাণ্ড কিনা—এসব বিষয় নিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

তিনি যোগ করেন, নিহত প্রধান শিক্ষক ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। তার হাতটিও গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিল। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও পাওয়া গেছে। জিয়াউর রহমান মামুন ও তার স্ত্রীর মানিব্যাগ ও ভ্যানিটি ব্যাগও গাড়িতেই ছিল। সবমিলিয়ে রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.