নুহাশ পল্লীতে হচ্ছে হুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘর

নিউজ ডেস্ক।।

কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের সহধর্মিনী মেহের আফরোজ শাওন জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই হুমায়ূন স্মতি যাদুঘর নুহাশ পল্লীতেই নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে নুহাশ পল্লীতে হুমায়ুন আহমেদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এদিন বেলা ১১টায় হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও তার দুই ছেলে নিশাত হুমায়ুন ও নিনিত হুমায়ুনসহ হুমায়ুনের ভক্ত, হিমু পরিবহনের সদস্যদের সাথে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারা লেখকের কবর জিয়ারত ও সেখানে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়ায় অংশ নেন।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতৃবৃন্দও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো খুব সুন্দরভাবে সংগৃহীত আছে। তার হাতে আঁকা ছবিগুলো অনেকদিন ধরে নিউইয়র্কের এক ব্যাক্তির কাছে আটকে ছিল। অতি সম্প্রতি সেই ছবিগুলো আমাদের হাতে এসে পৌছেছে। আমরা ছবিগুলো হাতে পেয়েছি। এরমধ্যে হুমায়ুন আহমেদের সন্তানদের কাছে, আমার কাছে যা কিছু ছবি আছে এগুলো হুমায়ুন আহমেদের স্মৃতি যাদুঘরে থাকবে। হুমায়ুন আহমেদের হাতের লেখা স্ক্রিপটগুলো যেগুলো বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে ছিল সেগুলো তারা যাদুঘরে দান করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আমার আশা শিগগিরই হুমায়ুন আহমেদের যাদুঘর নির্মাণরে কাজ শুরু করতে পারব।

১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নূহাশ পল্লীতে স্থানীয় দুইটি মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের নিয়ে কোরআখানি, মিলাদ ও দোয়ারও আয়োজন করা হয়। শাওন ও তার দুই ছেলে এতিমদের প্লেটে খাবার তুলে দেন। সকালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ উপস্থিত হুমায়ুন ভক্তদের জন্য খিচুড়ি, ডিম, মুরগির ঝাল ফ্রাই এবং দুপুরে সাদা ভাত, গরু ও মুরহির মাংস এবং ডাল খেতে দেয়া হয়।

মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকেদর জানান, ক্যান্সার হাসপাতাল নিয়ে হুমায়ুন আহমেদের যে স্বপ্ন ছিল সেটা পূরণ করার জন্য যে শক্তি যে সামর্থ্য দরকার হয় সেটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তাও আমার নেই। সমষ্টিগতভাবে আমরা সবাই যদি চেষ্টা করি হয়তো বা হবে। আমার কাছে মনে হয়েছে অনেক বড় স্বপ্নের আগেও অনেকগুলো ছোট ছোট স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নগুলো যে একটু একটু করে পূরণ হচ্ছে সেটার ভালো একটা খবরটা আমি আপনাদের দিচ্ছি। হুমায়ুন আহমেদের নিজ গ্রামে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠটি যেটার কথা আমি প্রতিবারই বলেছি সেটি নিয়েও তার একটি স্বপ্ন ছিল। এ স্কুলটি ২০২০ সালে নিম্ন মাধ্যমিক (অষ্টম শ্রেণি) পর্যন্ত এমপিওভুক্ত ছিল। কিন্তু সুখবর হলো ওই স্কুলটি হুমায়ূন আহমেদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীর মাসেই ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি ও অন্য প্রকাশের সত্ত্বাধিকারী মাজহারুর ইসলাম বলেন, হুমায়ূন আহমেদের পরিবার থেকে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি তাদের পাশে থাকবে। তিনি দাবী করেন নুহাশ পল্লীতে হুমায়ুন আহমেদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকারি, বে-সরাকরি আথবা পারিরবারিক উদ্যোগে একটি স্মৃতি যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা জরুরি প্রয়োজন। এ উদ্যেগটির সাথেও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি পাশে থাকবে। ওই সমিতির কেন্দ্রীয় এবং রাজধানী কমিটির কমপক্ষে ২০ জন প্রকাশক তিনটি প্রকাশক সমিতির পক্ষ থেকে হুমায়ুন আহমোদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবদেন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মিলেনিয়াম পাবলিকেশন্সর স্বত্তাধিকারী এস এম লুৎফর রহমান, ধ্রুব পদ প্রকাশণীর স্বত্তাধিকারী আবুল বাশার ফিরোজ শেখ, মাতৃভাষা প্রকাশের স্বত্তাধিকারী নেছার উদ্দিন আইয়ুব, অনিক পাবলিকেশন্সর স্বত্তাধিকারী মাহতাব উদ্দিন প্রমুখ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.