নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিরাজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোখলেছুর রহমান। এ ঘটনায় সোমবার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে শান্ত করে।
সম্প্রতি মাদ্রাসার তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সোমবার সকালে ওই তিনটি পদের নিয়োগ বোর্ড গঠনের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার ইউনুস আলীর সঙ্গে পরামর্শ করতে আসেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোখলেছুর রহমান।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সুলতান আলী জানান, ওই সময় তিনটি পদেই মাদ্রাসা সভাপতির মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করা হয়। আমার ছেলে একটি পদের প্রার্থী হওয়ায় তিনি সভাপতিকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় সভাপতি মোখলেছুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনেই আমাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুসি মারেন। এতে আমার নাক ভেঙে যায় এবং তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হই।
খবর পেয়ে সুলতানের পরিবারের লোকজন মাদ্রাসায় আসার চেষ্টা করেন। পথে মোখলেছুর রহমান ও তার লোকজন সুলতান আহমেদের ছেলে মাহবুবার রহমান বিপ্লব (২৫) এবং বড় ভাই বুলু মিয়াকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সুলতান অভিযোগ করেন, প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সভাপতি তার মনোনীত তিন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। আমার ছেলেও একজন প্রার্থী হওয়ায় আমি সভাপতি ও মাদ্রাসা সুপারকে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাই। জবাবে সভাপতি আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেন।
এ ব্যাপারে মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তবে মাদ্রাসা সুপার ইউনুস আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকেও কিছু জানানো হয়নি।
রাজারহাট থানার ওসি রাজু সরকার বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষক সুলতান আলীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
