বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে দুর্বৃত্তরা ডেকে নেয়ার সময় আবরার তার অংকের খাতাটা খোলা রেখেই চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বইয়ের অংক অসমাপ্ত রাখলেও ঘাতকরা তার জীবনের অংকের হিসাব শেষ করে দিয়েছেন।
আমার একজন সাবেক ছাত্র আবরারের সহপাঠী কুমিল্লার মাসুদের সহায়তায় বুয়েটের শেরে বাংলা আবাসিক হলে গিয়ে আবরারের ১০১১ নম্বর রুমে তার পড়ার টেবিলে অংক খাতাটি খোলা অবস্থায় পাই। আমি নিজেও একজন অংকের শিক্ষক।চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না। হু হু করে কেঁদে ফেলি। কদিন পূর্বেও মাসুদসহ আবরারের সাথে টিএসসিতে দেখা হয়েছিল।
মাসুদ জানালো, ঘাতকরা ডেকে নেয়ার সময় অংক করছিলো আবরার।
মাসুদ ছাড়াও শেরে বাংলা হলের বেশ কয়েকজন আবাসিক ছাত্রের সাথে কথা বলে জানতে পারি, রবিবার রাতে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ফেসবুকের একটি ষ্ট্যাটাস’কে কেন্দ্র করে আবরারকে ডেকে নিয়ে ‘শিবিরকর্মী’ সন্দেহে জেরা করার পর ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন আবরারকে নির্মম, নির্দয় ও অমানবিক ভাবে পিটিয়ে খুন করেন।
এই জঘন্যতম ও অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এই জঘন্যতম ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দ্রুততম সময়ে করতে জোর দাবি জানাই।
টিভি নিউজের মাধ্যমে জানতে পারি, এই ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ এ পর্যন্ত ৯জনকে আটক করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাদের নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় বুয়েট ছাত্রলীগের ১১জনকে চিরস্থায়ীভাবে বহিস্কার করেছে।
আবরার ফাহাদ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং(EEE) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আবরার ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন, ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
