আগস্টের মাঝামাঝিতে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আগামী রোববার দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১৯ জুন থেকে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর দুই সপ্তাহ পর ফের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে এমন তথ্য জানিয়ে গত ৬ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি।

এদিকে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি এই পরীক্ষা আয়োজন করা হতে পারে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৩-১৬ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। এই প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন পেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করবে সমন্বয় বোর্ড। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সাব কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি কমে গেছে। এই অবস্থায় আমরা এসএসসি পরীক্ষ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে স্কুলগুলো আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সেগুলো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সম্মতি পেলে পরীক্ষার রুটিন তৈরির কাজ শুরু করা হবে। রুটিন প্রকাশের পর দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে পরীক্ষা শুরু করা হবে। আগস্ট মাসে পরীক্ষা শুরু করতে চান বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থগিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ে কথা বলতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। আগামী রোববার দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে এসএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা খোঁজ রাখছি নিয়মিত। এখনো কিছু কিছু এলাকায় শহর থেকে পানি নেমে গেছে, একদম গ্রাম পর্যায়ে এখনো হয়তো কোথাও কোথাও আছে। সেটাও হয়তো নেমে যাবে। কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। আমাদের কাছে তথ্য আসছে, অনেক পরীক্ষার্থীর বইপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এবারের বন্যার মধ্যে লোকজন একেবারে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে হয়তো জানটুকু নিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন কোনোমতে। সেখানে বই নিয়ে আসার সুযোগ অনেকের হয়নি।

তিনি আরো বলেছিলেন, আমরা এখন পুরোটা অ্যাসেস করছি আমাদের কত পরীক্ষার্থীকে নতুন করে বই দিতে হবে। আমাদের কাছে প্রতি বছর কিছু বাফার স্টক থাকে। তারপরও এ রকম একটা বড় অঞ্চল নিয়ে বন্যা হয়ে পরীক্ষার্থীর বই হঠাৎ এই পর্যায়ে হারিয়ে যাবে সেটা আসলে আমাদের বিবেচনায় ছিল না। আর সেটা প্রতি বছর রাখা হয়তো সম্ভবও না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা দেখছি, হিসাব করছি। যদি প্রয়োজন হয় আমরা নতুন বই ছাপিয়েও ফেলবো। তারপরও আমরা পরীক্ষার্থীদের হাতে তাদের বইগুলো পৌঁছে দেবো, যাদের বই নষ্ট হয়েছে। আবার তাদের হাতে বই পৌঁছে দেয়ার পরও অন্তত ২ সপ্তাহ সময় দিতে হবে, কারণ তারা বিরাট একটা ট্রমার মধ্যে দিয়েও গেছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক পরিবার নিঃস্বপ্রায় হয়ে গেছে এই সময়ে। সব মিলিয়ে এটা হলো আমাদের মোটামুটি টাইমলাইন। সেটা গিয়ে কোন মুহূর্তে ঠেকবে সেটাও বলা সম্ভব না।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.