অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ।।
উপক্রমোনিকা
মৃত্যু পরবর্তী জীবন বা পরকাল হল একটি জগত, যে ধারণা অনুসারে ব্যক্তির শরীরের মৃত্যু হলেও তার আত্মা বা চেতনার অস্তিত্ব থেকে যায়।
লোকায়ত মতবাদে, মৃত্যুর পরও অস্তিত্ববহন করে মানবসত্তা কোনো এক অতিপ্রাকৃত জগতে অবস্থান করে। তবে অন্যান্য লোকায়ত মতবাদ অনুসারে এই সত্তার পুনর্জন্ম ঘটে এবং পুনরায় জীবনচক্র শুরু হয়। এক্ষেত্রে পূর্বের জীবন সম্পর্কে কোন স্মৃতি থাকে না। বরং বারবার জন্ম ও মৃত্যুর প্রক্রিয়া চলতেই থাকে।
অনেক ধর্মই, তা হোক খ্রিষ্টধর্ম বা ইসলাম এমন কী অনেক পৌত্তলিক বিশ্বাসে মৃত্যুর পর অন্য এক জগতে আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাস করা হয়।সনাতন বা হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের অনেক ধারা পুনর্জন্মে বিশ্বাসী, সব ক্ষেত্রেই বিশ্বাস করা হয় পরকালে ব্যক্তির অবস্থান হচ্ছে জীবিতাবস্থায় তার কৃতকর্মের শাস্তি অথবা পুরষ্কার লাভের অধ্যায়।
জন্মান্তরবাদ
জন্মান্তরবাদ ও পুনর্জন্ম একটি পরকাল সম্পর্কিত ধারণা।হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, থিওসফিস্ট, স্পিরিটিস্ট ইত্যাদি বিশ্বাসে জন্মান্তরবাদ ও পুনর্জন্ম ধারণা পাওয়া যায়।
জন্মান্তরবাদের আরেকটি দিক হচ্ছে, এই বিশ্বাস অনুযায়ী প্রতিটি জীবনে একই সঙ্গে থাকে একটি পরকাল এবং পূর্বকাল। এই বিশ্বাস মতে, বর্তমান জীবন হল পূর্বজন্ম বা কর্মের ফল।
স্বর্গ ও নরক
অনেক ধর্ম অনুসারে ব্যক্তি মৃত্যুর পর পৃথিবীতে তার কৃতকর্ম বা বিশ্বাস বা ভাগ্যের ভিত্তিতে স্বর্গ বা নরকে যায় অথবা মৃত ব্যক্তির পুনরুত্থানের সময় পর্যন্ত একটি মধ্যবর্তী অবস্থায় অপেক্ষা করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বর্গ হলো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর পর পুরষ্কারস্বরূপ প্রাপ্ত একটি অবস্থা। অন্যদিকে নরক হলো পাপীষ্ঠদের শাস্তি ও পীড়নের একটি অবস্থা।
আফ্রিকান ধর্ম
আফ্রিকান ধর্মগুলো পরকাল সম্পর্কে বিচিত্র বিশ্বাস ধারণ করে। যেমন:
আফ্রিকা সাব-সাহারান পূর্বপুরুষদের বিশ্বাস হলো, মৃতব্যক্তি পুনরায় জীবিতাবস্থায় তাদের পরিবারে ফিরে আসে। এই পুনর্জন্মে ব্যক্তি তার পূর্বপুরুষের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো লাভ করে কিন্তু তার আত্মা লাভ করে না।
মেন্ডে সমাজের বিশ্বাস হলো, ব্যক্তির দু’বার মৃত্যু হয়। একবার মৃত্যু ঘটে মেন্ডেদের গোপন সমাজে যোগদানের পূর্বে, যা জীববিজ্ঞানগত মৃত্যু নয়। আর দ্বিতীয়বারের মৃত্যুটি হলো জীববিজ্ঞানগত মৃত্যু, তখন ব্যক্তি আসলেই মারা যায়। মেন্ডেরা আরো বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বর তাদের সৃষ্টির পর তারা পরপর দশটি জীবনযাপন করে ছিল, এই প্রত্যেকটি জীবনই একেকটি ক্রমধারার জগত।
বেশিরভাগ আফ্রিকান সমাজের সাধারণ চিত্র হলো, তাদের পরকালে স্বর্গ ও নরকের পরিষ্কার ধারণার অনুপস্থিতি। কিন্তু মৃত্যুর পর ঈশ্বর কর্তৃক আত্মার বিচারের ধারণা তাদের মধ্যে পাওয়া যায়।
হাজদাদের মতো শিকারী-সঞ্চয়কারী সমাজের মধ্যে পরকাল সম্পর্কিত কোন বিশেষ বিশ্বাস নেই।
মিশরীয় ধর্ম
প্রাচীন মিশরীয়দের সভ্যতা ধর্মের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। মিশরীয় ধর্ম বিশ্বাসই পরকাল সম্পর্কিত লিখিত ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। মৃত্যুর পর পরকালের বিশ্বাস ছিল তাদের মৃতের অন্তেষ্টিক্রিয়া পালনের প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের ধারণা মৃত্যুর পর আত্মার ‘কা’ (দ্বিতীয় শরীর) ও ‘বা’ (ব্যক্তিত্ব) মৃতদের রাজ্যে চলে যায়। সেখানে আত্মা ‘ফিল্ড অব অরু’ নামক স্থানে অবস্থান করে। মৃতদের বিকল্প হিসেবে সমাধির উপর একটি মূর্তি তৈরী করার রীতি ছিল প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে।
মৃতদের হৃদয়কে দাড়িপাল্লায় ওজন করা হয়। পাপ যদি পাল্লা হালকা হয় তাহলে সে ‘ফিল্ড অব অরু’তে যাবে। যদি ভারি হয় তাহলে তাকে ‘আম্মিত’ নামক দৈত্যের খাদ্যে পরিণত হতে হবে।
মিশরীয়গণ এমন বিশ্বাসও করতেন যে, যদি মৃতের শরীরকে ‘সারকোফেগাসে’ (বিভিন্ন জটিল চিহ্ন, ছবি ও হায়ারোগ্লিফিক লেখা সম্বলিত প্রাচীন মিশরীয়দের কফিন) রাখা হয়, সঠিকভাবে পচনরোধক মৃতের শরীরে মাখানো হয় এবং মন্দিরে সমাধিস্থ করা হয়, তাহলেই তাদের পরোলোক প্রাপ্তি ঘটবে।
তাদের কাছে মৃত্যু ছিল কেবল মাত্র একটি অস্থায়ী বাঁধা, পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি নয়। আর চিরকাল ব্যাপীজীবন কেবল দেবদেবীদের করুণা লাভ, মোমিকরণের মাধ্যমে দেহের সংরক্ষণ এবং মূর্তি তৈরী ও অন্তেষ্টিক্রিয়ার আচার যথাযথভাবে পালনের উপর নির্ভর করে।
গ্রিক ও রোমান ধর্ম
গ্রিক পুরাণ অনুসারে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডে’র রাজা হলেন গ্রিক দেবতা ‘হেডিস’। ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ হলো একটি স্থান যেখানে মৃতরা অবস্থান করে। দেবতাদের বার্তাবাহক, গ্রিক দেব ‘হার্মিস’ মৃতদের আত্মাকে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডে’ নিয়ে যান (কখনও হেডিসকে ডেকেও নিয়ে আসেন)। হার্মিস আত্মাকে স্টিক্স নদীর তীরে রেখে আসেন। গ্রীক পুরাণ মতে স্টিক্স নদী হল জীবন ও মৃত্যুর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী।
ইহুদি ধর্ম
হিব্রু বাইবেলে শেওলকে মৃতদের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেওলের ব্যাপারে খ্রিষ্টান লেখকদের বক্তব্য হল হিব্রু শব্দ শেওলের অনেক অর্থ হয়। এটা দিয়ে সমাধি, অবলম্বন, অপেক্ষার স্থান এবং সুস্থ হবার স্থানও বোঝায়। এটার অর্থ ‘গভীর’ও হতে পারে যেহেতু পৃথিবী ‘খুলে গিয়ে’ বিদ্রোহী কোরাহ, ডাথান, আবিরাম ও তাদের ২৫০ জন অনুসারীকে ধ্বংস করার কাহিনীতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়ে ছিলো। শেওলকে আক্ষরিকভাবে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যদিও একে সহজে ভূমিকম্প বা পৃথিবীর দ্বিখণ্ডিত হওয়া অর্থেও ব্যবহার করা যায়।
তালমুদে পরকাল সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তালমুদীয় কর্তৃপক্ষগণ স্বীকার করেন যে মৃত্যুর পর ধার্মিকগণ একটি পরকাল ভোগ করবেন। মৃত্যুর পর আত্মাকে বিচারের কাঠগড়ায় আনা হবে। যারা পাপমুক্ত জীবন যাপন করেছেন তারা তৎক্ষণাৎ ‘ওলাম হাবা’ বা ‘ওয়ার্ল্ড টু কাম’ এ প্রবেশ করবেন। বেশিরভাগই এই ওলাম হাবায় প্রবেশ করতে পারেন না, বরং তারা তাদের পার্থিব জীবন পর্যালোচনা করার জন্য একটি পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যান। এই সময় তারা পৃথিবীতে কী কী ভুল কাজ করেছেন সে সম্পর্কে অবগত হন।
ব্যাখ্যাকারীদের মতে, এই সময়টা হলো ‘পুনঃশিক্ষণ’ যেখানে আত্মা তার ভুলের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে জ্ঞান লাভ করে। অন্যদের মতে, এ সময়ে পূর্বের ভুলগুলোর জন্য এক ধরণের আধ্যাত্মিক অস্বস্তি কাজ করে। এ সময়কালের শেষে, যা এক বছরের বেশি নয়, আত্মা ওলাম হাবায় প্রবেশ করে।
কিছু ইহুদি ধারণায় মৃত্যুর পর পূর্বের ভুলের কারণে পাওয়া অস্বস্তির কথার উল্লেখ আছে।তবে অন্যান্য ধর্মগুলোর মধ্যে উপস্থিত চিরস্থায়ী নরকভোগের মত বিষয় ইহুদিদের পরকালের মতবাদে নেই।
ইহুদিধর্মে জন্মান্তর
যদিও ইহুদের তালমুদ বা এর পূর্বের ধর্মগ্রন্থগুলোতে জন্মান্তরবাদের কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না, কিন্তু পরে জন্মান্তরবাদকে ইহুদি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরা হয়। অবশ্য ইহুদিদের সবাই পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে না।
খ্রিষ্টধর্ম
প্রচলিত ও মূলধারার খ্রিষ্টধর্ম মত বলে, “আমরা মৃতব্যক্তির পুনরুত্থানের সন্ধান করি এবং সন্ধান করি আগামী জগতের জীবনকে”।
খ্রিষ্টীয় পরকালবিদ্যা, মৃত্যু, মধ্যবর্তী অবস্থা, স্বর্গ, নরক, যিশুখ্রিষ্টের দ্বিতীয়বার ফিরে আসা, মৃতব্যক্তির পুনরুত্থান, শেষ বিচার, নতুন স্বর্গ ও নতুন পৃথিবী এবং ঈশ্বরের উদ্দেশ্যের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করে।
ক্যাথলিক চার্চ
পরকাল সংক্রান্ত ক্যাথলিক ধারণা অনুসারে দেহের মৃত্যুর পর আত্মার বিচার হয়। ন্যায়নিষ্ঠ ও পাপমুক্তগণ স্বর্গে গমন করেন। তবে যারা পাপ করে অনুশোচনা না করেই মারা গেছেন, তারা নরকে গমন করেন।
অর্থোডক্স খ্রিষ্টান
অর্থোডক্স চার্চগুলো ঐচ্ছিকভাবেই পরকালের বিষয়ে কম কথা বলে।কারণ, তারা সব বিষয়েই, বিশেষতঃ যেসব ঘটনা এখনও পর্যন্ত ঘটেনি সেসব বিষয়ে রহস্যের স্বীকৃতি দেয়।
হিন্দু ধর্ম
উপনিষদে জন্মান্তরবাদের কথা আছে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম ভগবদ গীতায়, পরকাল সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ‘মানুষ যেমন তার পুরনো কাপড় ছেড়ে নতুন কাপড় পরিধান করেন, আত্মাও তেমনি তার পুরনো দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে’।
হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, দেহ একটি খোলসের মতো, ভিতরের আত্মা অপরিবর্তনীয় ও অবিনশ্বর, এবং এই আত্মা জন্ম-মৃত্যুর চক্রে ভিন্ন দেহধারণ করে মাত্র। এই চক্রের সমাপ্তিকে মুক্তি বা মোক্ষ বলা হয়। মোক্ষ লাভে আত্মা ঈশ্বরের সঙ্গে মিশে যায়।
ভগবদ গীতা অনুসারে আত্মা কখনও মরে না। শুধুমাত্র শরীরের মৃত্যু হয়, যার পাঁচটি উপাদান- ক্ষিতি (মাটি), অপ (পানি), তেজ (আগুন), মরুৎ (বায়ু), ব্যোম (আকাশ) এর সমষ্টি। এই পাঁচটি উপাদানকে পঞ্চভূত বলা হয়। এই পাঁচটি উপাদানের কোনটাই আত্মার কোন ক্ষতি বা আত্মাকে প্রভাবিত করতে পারে না।
হিন্দুধর্ম ‘কর্মে’ বিশ্বাস করেন। কর্ম হলো, ব্যক্তির ভালো ও মন্দ কাজের সমষ্টি। সৎকর্ম দ্বারা ভালো কাজ ও অসতকর্ম দ্বারা মন্দ কাজ বোঝায়। হিন্দুধর্মে কর্মের মূল ধারণা হলো ‘যেমন কর্ম, তেমন ফল’।
বৌদ্ধধর্ম
বৌদ্ধরা মনে করেন, যে মৃত্যুর পরে তাদের পুনর্জন্ম লাভ হবে, যেখানে তাদের আত্মা এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় গমন করবে।
বৌদ্ধরা মনে করেন, পুনর্জন্মের ধরণ কী হবে তা ব্যক্তির কম্ম বা কর্মের উপর নির্ভর করবে। পুনর্জন্মের পদ্ধতি পুর্ব থেকেই ঠিক করা নয়। এটা বিভিন্ন মাত্রার কর্মের উপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি কোন অবস্থায় পুনর্জন্ম লাভ করবে তা ঠিক হবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল শেষ চিন্তার সময়।
বৌদ্ধধর্মানুসারে, জীবন হল মহাবিশ্বের একটি মহাজাগতিক শক্তি এবং মৃত্যুর পর এটা মহাবিশ্বের সঙ্গে আবার জুড়ে যায়। তাদের বিশ্বাস যে কোনো জীবনের দশটি জীবনাবস্থা রয়েছে। এগুলো হল: নরক, ক্ষুধা, রাগ, পশুবৃত্তি, পরমানন্দ, মানবিকতা, শিক্ষণ, বোধগম্যতা, বোধিসত্ত্ব এবং বুদ্ধত্ব। এগুলোর মধ্যে জীবন যে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, জীবন পুনরায় সেই অবস্থাতেই আবার জন্মলাভ করে।
শিখ ধর্ম
শিখধর্মে পরকাল সম্পর্কিত খুব শক্তিশালী ধারণা রয়েছে। শিখরা বিশ্বাস করে, আত্মারা আধ্যাত্মিক জগতের অংশভুক্ত এবং যার উৎপত্তি ঈশ্বরের থেকে হয়েছে।
তবে শিখদের মধ্যে অনেকে বিশ্বাস করেন, শিখধর্মের পরকালে তাদের ধর্মগ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহিবে’র স্তবক অনুযায়ী পুরস্কার এবং শাস্তির ব্যবস্থা হবে। কিন্তু শিখদের এক বিশাল অংশ অন্যরকম বিশ্বাস করেন এবং তারা মনে করেন যে, সে সব স্তবকগুলো রূপকার্থক মাত্র।
জরাথুস্ট্রবাদ
জরাথুস্ট্রবাদ বলে, দেহচ্যুত আত্মা বা উরভান নিচের দিকে ইমার দ্বারা শাসিত মৃতের রাজ্যে যাবার পূর্বে পৃথিবীতে তিন দিন বিলম্ব করে। এই তিন দিনের জন্য আত্মা পৃথিবীতে বিশ্রাম নেয়, সৎ আত্মা তার শরীরের মাথার কাছে বসে এবং আনন্দের সাথে উস্তাভইতি গাথাসের ভজন করে, যেখানে মন্দ ব্যক্তি দেহের পায়ের কাছে বসে দুঃখপ্রকাশ করে এবং ইয়াসনার ভজন করে। জরাথুষ্ট্রবাদ বলে, সৎ আত্মার জন্য একটি সুন্দরী কুমারী আবির্ভূত হয় যা ব্যক্তির উত্তম চিন্তা, কর্ম ও বাক্যেরই নারীরূপ। অন্যদিকে একজন মন্দ ব্যক্তির বেলায় খুবই বৃদ্ধ, কুৎসিত ও নগ্ন ডাইনি আবির্ভূত হয়। তিন রাতের পর মন্দ ব্যক্তির আত্মাকে ভিজারেসা নামক একজন দৈত্য চিনভত সেতুতে নিয়ে যায় যা অন্ধকারে (নরক) যাবার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ইসলাম
বারযাখ ও আখিরাত তথা পরকাল সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সমাধিতে মুসলমানদের স্বাচ্ছন্দ্যের মাত্রা সম্পূর্ণরূপে তাদের ঈমান তথা সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বোচ্চ সত্তা মহান আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাসের মাত্রার উপর নির্ভরশীল।
ইসলামের শিক্ষা হলো মানবজাতি সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হল মহান আল্লাহর ইবাদত করা।বলা হয়, পৃথিবীতে মানুষ যে জীবন যাপন করে সেটা তাদের জন্য একটা পরীক্ষা এবং মৃত্যুর পর তাদেরকে তাদের ভালো ও মন্দ কাজের উপর ভিত্তি করে শেষ বিচারের পর জান্নাত বা জাহান্নাম দেওয়া হবে।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও শেষকথা
বিভিন্ন ধর্ম মতে বিশ্বাস করা মৃত্যু পরবর্তী চেতনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সংশয়বাদী অবস্থান নেয় বিজ্ঞান।মন-দেহ সমস্যা বা মাইন্ড-বডি প্রবলেমের উপর ভিত্তি করে বেশিরভাগ স্নায়ুবিজ্ঞানী বা নিউরোসাইন্টিস্ট, ফিজিকালিস্ট বা শরীরবাদী অবস্থান নেন যা অনুসারে চেতনা শরীরের বৈশিষ্ট্য যেমন মস্তিষ্কের স্নায়বিক কার্যাবলি থেকেই উৎপন্ন হয়। বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ স্বীকার করেন যে, মৃত্যুর সময় মানবাত্মার তথ্যসমূহ কেবল মাত্র তাদের থেকেই আবিষ্কার করা সম্ভব যারা মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করছেন।
মৃত্যু সম্পর্কিত তথ্য আবিষ্কার করার জন্য তিব্বতীয় লামাদের একটি দল শিষ্যদের তাদের মৃত্যুর সময়কার অভিজ্ঞতা জানিয়ে যান। লামাদের বর্ণিত লক্ষণসমূহের মধ্যে আছে-
শরীরে চাপের একটি অনুভূতি,
ভেজা-ঠাণ্ডা ও তারপর জ্বরজ্বর উষ্ণতা,
শরীর পরমাণুসমূহে পরিণত হচ্ছে এ ধরণের অনুভূতি।
তবে বিজ্ঞানের বিশ্লেষণে এমনও অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে ব্যক্তিকে ক্লিনিকালি ডেথ ঘোষণা করা হয়ে ছিলো কিন্তু ব্যক্তি বেঁচে উঠেছেন। সে সব ব্যক্তিকে যখন তাদের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা দাবি করেন- তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তার জন্য যথেষ্ট শব্দ নেই।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
