এইমাত্র পাওয়া

সরকারি ন্যায় ঐচ্ছিক বদলি এবং উচ্চতর গ্রেড দ্রুত বাস্তবায়ন চাই

মোঃ আবুল হোসেন।।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ঐচ্ছিক বদলি এবং উচ্চতর গ্রেড যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঐচ্ছিক বদলি এবং উচ্চতর গ্রেড এ দুই থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই বদলি সিস্টেম। বদলি সিস্টেম চালু না থাকার কারণে বর্তমান সময়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করে আসছে।

আজও সেই আদিম যুগেই রয়ে গেল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবনযাপন। যুগের পট পরিবর্তন হলো। জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পেল। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের ধারায়। সকল দিকেই আজ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দেশ। এনালগ যুগের পরিবর্তন হলো। আজ দেশ ডিজিটাল যুগে পৌঁছে গেছে। দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে। দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। শুধু পিছিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রকৃত উন্নয়নের ছোয়া এখনো পেল না। রয়ে গেল পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন।

সরকারি এবং বেসরকারি এই পার্থক্যের অবসান হওয়া খুবই জরুরি। আজ বর্তমান সময়ে বিশ্বের কোথাও শিক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের নীতি অবলম্বন করা হয় না। শিক্ষা ব্যবস্থা এক ও অভিন্ন। এখানে সকলের সমান সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান। শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব। একটি দেশের মেরুদন্ড নির্ভর করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। শিক্ষা ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষকরাই জাতি গঠনের নিপুণ কারিগরের দায়িত্ব পালন করে।শিক্ষক হলো রাষ্ট্র কিংবা সমাজ গঠনের রুপকার। শিক্ষকদের তাই সঠিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষকদের মানোন্নয়নে বৈষম্য দূরীকরণ প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে বদলির বিকল্প কিছুই হতে পারে না। শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে মনোযোগ হারিয়ে ফেলে।

এর প্রভাব পড়বে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। বদলি প্রথা এনে দিতে পারে সমস্যার সমাধান। নিজ জেলায় বা থানায় চাকরি করার সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে সিংহভাগ চাকরি করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। ম্যানেজিং কমিটি কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দ্বারা কারণে অথবা অকারণে নির্যাতিত হতে হয় শিক্ষকদের।আজকাল পত্র পত্রিকার খুললেই দেখা যায় বিভিন্ন জেলা এবং থানায় শিক্ষক নির্যাতিত হচ্ছে। শিক্ষক নির্যাতন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য শুভলক্ষণ নয়। আজ যদি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালু থাকত তাহলে হয়তোবা এই নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। অনেক শিক্ষককে আবার কারণে অকারণে চাকরি হারাতে হয়। সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে চাকরি জীবন অতিবাহিত করতে হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। যা কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে করণীয় বদলি সিস্টেম। শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলি সিস্টেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বদলি সিস্টেম চালু হলে শিক্ষক নির্যাতনের হার কমে আসবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতিতে আসবে পরিবর্তন। তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদে পাঠদানের প্রতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বদলি সিস্টেম। প্রতিটি শিক্ষকের আছে সংসার চালানোর পিছুটান। এই পিছুটান থেকে মুক্ত করতে প্রয়োজন নিজ জেলা অথবা থানায় বদলি সিস্টেম চালু করা। বদলি সিস্টেম চালু না থাকার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় অস্থিরতা বিরাজমান। শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরাতে বদলি প্রথা জরুরি। নিজ জেলা এবং থানায় যদি বদলির প্রথা চালু করা হলে পাঠদানের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে শিক্ষকদের মাঝে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ এই যে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণ সঞ্চার করুন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.