নিউজ ডেস্ক।।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে ৩য় গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বিভাগ পরিবর্তনের কারণে ইনডেক্স ট্রান্সফার করতে পারছেন না শিক্ষকরা। এ নিয়ে শিক্ষকরা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কোন সমাধান পাচ্ছেন না। ঘাটে ঘাটে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য এনটিআরসিএ-এর ৩য় গণবিজ্ঞপ্তিতে বিধিমতে ইনডেক্স নম্বর দিয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে এমপিওভুক্ত বিভিন্ন মাদ্রাসায় চূড়ান্ত নিয়ােগ সুপারিশ করে। কিন্তু ওসব প্রতিষ্ঠানে পূর্বের ইনডেক্স নিয়ে যোগদান করতে পারছেন না।
মাদ্রাসা অধিদপ্তর বলছে, মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.emis.gov.bd) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.memis.gov.bd) দুটিতে ডেটালিংক না থাকায় পূর্ববর্তী ইনক্রিমেন্ট বহাল রেখে সরাসরি এমপিওভুক্তি করা যাচ্ছে না। এবং মাদ্রাসায় আবার নতুন করে এমপিওভুক্ত হতে হবে।
শিক্ষকরা বলছেন, তাদের অনেকেরই চাকরির অভিজ্ঞতা ৩ থেকে ৫ বছর। এবং অনেকে ৩-৪টি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন। তাদের এ ইনক্রিমেন্ট বহাল না থাকলে আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির শিকার হবেন। তাছাড়া চাকরির সময়কালে জ্যেষ্ঠতা এবং অবসরকালীন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ ধরনের সমস্যা ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পরিপত্র জারি করে ইতােমধ্যে করেছে। তাছাড়া জনবল কাঠামো-২০১৮ ( ২৩ নভেম্বর ২০২০ সংশােধিত) মাদ্রাসার অনুচ্ছেদ নং ১১.৮-এ বলা আছে ‘ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারী এক ধরনের প্রতিষ্ঠান হতে অন্য প্রতিষ্ঠানে সমপদে সমস্কেলে চাকুরিতে যােগদান করলে পূর্ব অভিজ্ঞতা গণনাযােগ্য হবে।’
শিক্ষকদের দাবি, ইনক্রিমেন্ট বহাল রেখে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ডেটাবেস সফটওয়্যারটি আপডেট করতে হবে। অনলাইনে ইনডেক্স ট্রান্সফারের প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে একটা প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে যে, কিভাবে শিক্ষকরা আবেদন করলে পূর্বের ইনডেক্স বহাল থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) হাবিবুর রহমান বলেন, এটি নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। আসলে নীতিমালায় বিষয়গুলো নিয়ে কিছুটা অস্পটতা আছে। তবুও শিক্ষকদের এ সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এর সমাধানে কাজ করছে। কমিটির আহ্বায়ক আরো বিস্তারিত বলতে পারবেন।
ইনডেক্স জটিলিতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে করা কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে অবগত হয়েছি। আমি গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বাইরে ছিলাম। দেশের বাইরে যাওয়ার আগে এটি নিয়ে একটা মিটিং করেছিলাম। মিটিংয়ে এ সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মিটিংয়ে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষকদের সমস্যাটি ইতোমধ্যে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানোর সিদ্ধান্ত হনিয়েছি। ইতিমধ্যে সেটি জানানোও হয়েছে। আশা করছি ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই একটি সুষ্ঠু সমাধানে আসতে পারবো আমরা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
