নিউজ ডেস্ক।।
তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও এমপিও ফাইল আটকে ছিল হাজারো শিক্ষকের। উপজেলা অফিস থেকে মাউশি আঞ্চলিক অফিসগুলোতে এ নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন তারা।
|আরো খবর
প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানালো মন্ত্রণালয়
এবার বাংলাদেশ থেকে হজে যাচ্ছেন ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন
কিয়েভ থেকে সব সেনা সরিয়ে নিয়েছে রাশিয়া: পেন্টাগন
সমস্যা সমাধানে আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সর্বশেষ আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানে বয়সসীমা শিথিল করে পরিপত্র জারি করলো শিক্ষা মন্ত্রলালয়। ফলে হাজারো শিক্ষকের হয়রানি বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত বিভিন্ন রীট পিটিশনের প্রদত্ত আদেশের প্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক ৩০/০৩/২০২১ তারিখে জারীকৃত ৩য় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৪ নং অনুচ্ছেদে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে ৩৯০০/২০১৯নং মামলার রায় অনুযায়ী ১২/০১/২০১৮ তারিখের পূর্বে যারা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ লাভ করেছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য শর্ত যুক্ত করা হয়। এ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে প্রযোজ্য প্রার্থীগণ আবেদন করেন এবং নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সোনা মনি চাকমা স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, এনটিআরসিএ ৩য় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকগণের মধ্যে যারা উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করেছিলেন এবং ১২/০৬/২০১৮ তারিখের পূর্বে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন তাদের এমপিও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বয়সসীমা প্রযোজ্য হবে না। তবে এই আদেশ কোনো ক্ষেত্রে নজির হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে শর্ত দেয়া হয়েছে। পরিপত্রের আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য মাউশিকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
শর্তের বিষয়ে এমপিও প্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী শুধু মাত্র রিট পিটিশনার এর আওতায় আসবেন না সবাই আসবেন তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক।
বৈঠকে অংশ নেয়া মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিটিংয়ের শেষে আমি ছিলাম না। তবে আলোচনায় যতটুকু আমি জেনেছি এমপিও সবাই পাবে। সমস্যা হলে পূণরায় সংশোধিত পরিপত্র জারির কথাও জানান তিনি।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমাদের এমপিও নীতিমালায় বয়সের যে কাঠামো দেয়া আছে, সেটার সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যারা চাকরি পেয়েছেন, তা মিলছে না। তবে যেহেতু আদালতের নির্দেশনা আছে, আমরা সেই নির্দেশনার মধ্যে তাদের নিয়ে আসবো।
জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩৪ হাজার শিক্ষককে সুপারিশপত্র দেয় এনটিআরসিএ। এসব শিক্ষক নিজ নিজ স্কুলে যোগদান করেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ২০২১ সালের সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩৫ বছর। ফলে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষকদের এমপিওর আবেদন বাতিল করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের আঞ্চলিক শিক্ষা কার্যালয়। এতে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েও সাত হাজার শিক্ষকের এমপিও নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। চার মাস ধরে তারা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছিলেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
