নিজস্ব প্রতিবেদক।।
মাঠ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষা কর্মকর্তারা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কোনো ঘটনা ঘটলে তারা আদৌ সামাল দিতে পারছেন না। ফলে সার্বিকভাবে শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার ইউনিয়নে বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের জেল খাটার বিষয়টি সুশীল সমাজে বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে। অন্যদিকে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্কুল ড্রেস পরে না আসায় এবং হিজাব পরায় ১৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির ঘটনায় সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনি পালকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের অদক্ষতার বিষয়টি আবারও ফুটে উঠেছে। ঘটনা জানার পরও দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই সব এলাকার শিক্ষা কর্মকর্তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে তারা বিদ্যালয়ে যান।
২০ মার্চ বিকেল ৩টায় বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রাসঙ্গিকভাবে ধর্ম বিষয়েও কথা বলেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য রেকর্ড করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওইদিন স্কুল ছুটির পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। জানা যায়, বিজ্ঞান ক্লাসে বিষয়ের প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে তা রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর প্রধান শিক্ষক বরাবর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। কেউ ছাত্রদের ব্যবহার করে হৃদয় মণ্ডলকে ফাঁসাতে এই কাজ করিয়েছে। আর সে কারণে বিজ্ঞান ক্লাসে এক ছাত্র বারবার একই ধরনের প্রশ্ন করে যাচ্ছিল শিক্ষককে ফাঁদে ফেলতে। ছাত্রদের বিক্ষোভও করিয়েছে একটি মহল।
এ ঘটনার বিষয়ে তদারকি ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি ছিল কিনা জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বেনজীর আহম্মেদ বলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে ২২ মার্চ বিলম্বে বিষয়টি জানান। এর আগে ২০ মার্চ শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে ‘ধর্ম নিয়ে কটূক্তি’ করার অভিযোগ করে এবং ২১ মার্চ শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করে শাস্তির দাবি জানায়। এতে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন মিয়া অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। তারা মীমাংসা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি আমাকে অবহিত করেন। এক প্রশ্নের জবাবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি আমাকে জানালে বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হয়ে যায়, সেই সময়ে আমাকে জানানোর পর আর কিছুই করার ছিল না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। শিক্ষক ও ছাত্রদের কথোপকথন পূর্বপরিকল্পিতভাবে রেকর্ড করা হয়েছে, তা বোঝা গেছে। ছাত্ররা এমনভাবে প্রশ্ন করেছে যেন সেই ধরনের অভিব্যক্তি বের হয়ে আসে। চক্রান্ত করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে শুনেছি। জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসিমা খানমও একই কথা জানিয়েছেন।
হৃদয় মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা মণ্ডল জানান, তার স্বামী কোনো অপরাধ করেননি। ২২ বছর ধরে তিনি ওই বিদ্যালয়ে গণিত ও বিজ্ঞানের ক্লাস নিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল ড্রেস পরে না আসায় এবং হিজাব পরার কারণে স্কুলের ১৮ শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আমোদিনি পাল নামে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এটাকে কেন্দ্র করে পরদিন এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই স্কুলে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ভাঙচুরের এই ঘটনা এবং নির্যাতনের শিকার কয়েক শিক্ষার্থীর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
