এইমাত্র পাওয়া

লালমাটিয়া কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুলের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারকি কর্মকর্তা রেখে একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।

জানা যায়, নানা অনিয়ম করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, দশ বছর যাবৎ দপ্তর হতে বেতন ভাতা গ্রহণ, নিজ আয়করের অর্থ কলেজ হতে গ্রহণ ও মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারিকরণের প্রক্রিয়াধীন কলেজের ৫৫ জন নিবন্ধনহীন শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য।

লালমাটিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষা ক্যাডারের এই অধ্যক্ষের বিষয়ে আরও অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, তিনি ২০১২ সাল থেকে এখন পর‌্যন্ত গত প্রায় এক দশক ধরে বেসরকারি কলেজটিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মো. রফিকুল ইসলামকে লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে ২০১২ সালের ৯ জুলাই থেকে ২০১৬ সালে ১৪ অক্টোবর পর‌্যন্ত প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর পর‌্যন্ত তাকে লিয়েনে দ্বিতীয় মেয়াদে বদলির আদেশ জারি করা হয়। লিয়েনে বদলির মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর‌্যস্ত একই কলেজে পুনরায় প্রেষণে বদলির নির্দেশ বলবৎ রেখে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর শিক্ষ মন্ত্রণালয় আবার প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরই মধ্যে বেসরকারি কলেজটি ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর সরকারিকরণ করা হয়।

সরকারী ক্যাডার সার্ভিসের বিএসআর পার্ট-১-এর ৩৪ বিধিতে বলা হয় ‘নিজ সার্ভিসের বাইরে ৫ বছরের অধিককাল থাকলে তিনি সরকারি চাকুরে হিসেবে গণ্য হবেন না। এই চাকরির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সম্পর্ক ছিন্ন হবে।’

এছাড়া লিয়েন বিধিমালা ২০২১-এর বিধি ১১-এর (ক) অনুযায়ী, ‘একাধারে অথবা বিচ্ছিন্নভাবে সর্বোচ্চ ৫ বছর লিয়েন সংরক্ষণ করা যাবে। কিন্তু রফিকুল ইসলাম গত দশ বছর ধরে বেসরকারি কলেজটিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছে, ক্যাডার সার্ভিসের কোনো শিক্ষক বেসরকারি কলেজে বদলি পদায়নের বিধান না থাকলেও অনিয়ম করে এই সুযোগ নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম।

দুদকে আসা অভিযোগ থেকে জানা যায়, লালমাটিয়া কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ক্যাডার সার্ভিসের বেতন ভাতা সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেষণে বদলি হওয়া বেসরকারি কলেজ থেকেও বেতনভাতা ও বাড়ি ভাড়ার মতো যাবতীয় সুবিধা ভোগ করেছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ক্যাডার সার্ভিসের শিক্ষক হিসেবে সরকারে কাছ থেকে মাসিক ৭৬ হাজার ৬৮৪ টাকা বেতন নিতেন। একইসঙ্গে লালমাটিয়া কলেজের অধ্যক্ষের বাস ভবনে থেকেও আবাসিক সুবিধা বাদেই ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতনভাতা নিয়েছেন।

দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম রাজধানীর ইন্দিরা রোডের দেড় কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট স্ত্রীকে দান করেন। নিজের নামে ঢাকায় কোনো ফ্ল্যাট নেই দেখিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লালমাটিয়ায় একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন। অন্যদিকে সাফা গ্রিন সিটি লিমিটেডে নিজের নামে প্লট নিয়েছেন। এছাড়া ঢাকার অদুরে সাভারে নিজের, স্ত্রীর ও কন্যার নামে রয়েছে তার একাধিক প্লট।

এতসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.