রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো ছেলে ও মেয়েদের ১৭টি হলে একসাথে সম্বলিত হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা আগে খখনো এক সাথে হয়নি। এর আগে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বরের পর দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা পালা শেষে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সমন্বিত হল সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আবাসিক হল ইউনিট।
শামসুজ্জোহা হলের সাধারণ সম্পাদক বোরজাহানের সঞ্চালনায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিয়ান খান জয় বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবে যারা আগামী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেখ । যারা নিজের পকেটে টাকা না থাকলেও তার শিক্ষার্থী বন্ধুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে। যারা তাদের অসহায় বন্ধুর মুমূর্ষু অবস্থায় পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকে। আজ তাদের জন্য হল সম্মেলন। এই হল সম্মেলনে সেই নেতৃত্ব উঠে আসবে যেই নেতৃত্ব নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে। নিজের চিন্তা না করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে। আমরা সেই নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি।
ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে বলতে চাই বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক সংগ্রাম ইতিহাসে ছাত্রলীগ যেভাবে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেদের প্রান উৎস্বর্গ করে হলেও নিজেরকে অবদান রাখতে হবে। রাবির ইতিহাস রক্তে রঞ্জিত। এখানে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ওই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাত-শিবির ছাত্রলীগের ভাইদের রক্তে রঞ্জিত করেনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রক্তে রঞ্জিত করা মাটি। রাবি সব সময় সকল আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরেও শিবিরেরা ছাত্রলীগের উপর অত্যাচার কোনভাবেই বন্ধ করেনি। একটি সময় পর্যন্ত তারা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় তাদের কূটকৌশল এবং পাকিস্তানি মদদদাতা ও জঙ্গি সংগঠন তাদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে অন্য জনের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে ছাত্রলীগের উপর তারা আক্রমণ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেনো জামাত শিবির একবিন্দু দাড়াতে না পারে তার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করে এই মাটি থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করবেন। সেজন্য সকল ধরনের সহযোগিতা ছাত্রলীগ থেকে দেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ মাঠে শুরু হওয়া ১৭টি হলের সমন্বিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম কামাল হোসেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ড. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা।
হল সম্মেলন উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমরান মাহমুদুল, আঁখি আলমগীর এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
