খাদ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে নিম্ন আয়ের দেশগুলো : বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাত চলতে থাকলে নিম্ন আয়ের দেশগুলো খাদ্যঝুঁকিতে পড়বে। এই দেশগুলোর রেমিট্যান্সও কমে যাবে।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটও তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত বৃহস্পতিবার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলা ট্রিবিউন। বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্দারমিট গ্রিল জানান, কিছু উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ খাদ্যের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার অনেক দেশ তাদের আমদানি করা গমের ৭৫ শতাংশেরও বেশি নেয় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। সঙ্ঘাতের কারণে দেশগুলো রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করতে পারছে না।

খাদ্য পরিবহনও ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে খাদ্যের দাম বাড়তে পারে, এমনকি তৈরি হতে পারে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাও। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বাজারেও একটি প্রধান শক্তি। এটি প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারের এক-চতুর্থাংশ, কয়লার বাজারের ১৮ শতাংশ, প্লাটিনামের বাজারের ১৪ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের বাজারে ১১ শতাংশ জোগান দেয়।

যুদ্ধের কারণে এই পণ্যগুলোর সরবরাহে বিরাট প্রভাব পড়েছে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও কমিয়ে দেবে। বিশ্বব্যাংকের অনুমান, তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটা চলতে থাকলে পণ্য আমদানিকারী উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে প্রবৃদ্ধি হতাশাজনকভাবে কমবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাত যদি স্থায়ী হয় তবে চীন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্কের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোতেও প্রবৃদ্ধি কমবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ধারণা করা হচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ শতাংশ, তুরস্কে ২ থেকে ৩ শতাংশ এবং চীন ও ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে; কিন্তু সঙ্ঘাতের কারণে দেশগুলো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে না। বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে বৃহত্তম গণ-অভিবাসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্য এশিয়ার অনেক দেশে সঙ্ঘাতের ফলে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.