ইউক্রেনে আক্রমণ বন্ধে জাতিসঙ্ঘে প্রস্তাব পাস

নিউজ ডেস্ক।।

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সমস্ত রুশ সৈন্য প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে গত বুধবার এক জরুরি অধিবেশনে বিপুল ভোটে প্রস্তাব পাস হয়েছে। ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪১ সদস্য রাষ্ট্র আর বিপক্ষে ভোট দেয় পাঁচটি রাষ্ট্র। প্রস্তাবে ইউক্রেনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এই ইস্যুতে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বাংলাদেশসহ ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। তবে রাশিয়ার মিত্র কিউবা এবং নিকারাগুয়ার কিছু বিস্ময়কর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের অনুরূপ প্রস্তাবে বিরত ছিল, তারা সবাই প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। মোট ১৮১টি দেশ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, তুরস্কসহ ১৪১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, বেলারুশ, ইরিত্রিয়া ও সিরিয়া। আর বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চীন, ইরাক, ইরানসহ ৩৫ দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। গত সোমবার থেকে টানা দুই দিন বিতর্কের পর বুধবার প্রস্তাবটির ওপর ভোট গ্রহণ করা হয়। পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বে ৯০টির বেশি দেশ এই প্রস্তাবকে স্পন্সর করে।

প্রস্তাবটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট প্রয়োজন ছিল। নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলেশনের বিপরীতে, সাধারণ পরিষদের রেজ্যুলেশন আইনত বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নয়, তবে আন্তর্জাতিক মতামত প্রতিফলিত করার ক্ষেত্রে এই ভোটাভুটির প্রভাব রয়েছে। সাধারণ পরিষদে কিউবা যদিও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তা সত্ত্বেও দেশটির রাষ্ট্রদূত পেদ্রো লুই কুয়েস্তা, এ সঙ্কটের জন্য রাশিয়ার উদ্বেগকে উপেক্ষা ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। আর সিদ্ধান্তটি তখনই আসল যখন রাশিয়া ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে বোমাবর্ষণ করছিল এবং দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবরোধ করে আছে। এ ছাড়া রাশিয়ান সামরিক যানের একটি বিশাল বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাইরে অবস্থান করছিল।

এ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিশেষ অধিবেশনকে ঐতিহাসিক এবং ‘অভূতপূর্ব বৈশ্বিক ঐক্যের’ প্রদর্শন বলে অভিহিত করেছেন। বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বের একটি অপ্রতিরোধ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্বীকার করে যে আমরা যদি পুতিনের রাশিয়ার বিরুদ্ধে না দাঁড়াই, তবে এটি বিশ্বে আরো বিশৃঙ্খলা এবং আগ্রাসন ঘটাবে।’ শুক্রবার রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের অনুরূপ একটি প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার পর, ইউক্রেন এবং তার সমর্থকরা একটি জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে। যার ফলে সোমবার এ জরুরি অধিবেশন শুরু হয়। দুই দিনব্যাপী চলা এ আলোচনায় প্রায় ১২০টি সদস্য রাষ্ট্র এ বিষয়ে সাধারণ বিতর্কে অংশ নেয়। পাস হওয়া প্রস্তাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘আগ্রাসন’কে তীব্রভাবে নিন্দা করা হয়। প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এমন মাত্রায় যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কয়েক দশক ধরে ইউরোপে তা দেখেনি এবং এই প্রজন্মকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এই রেজ্যুলেশন ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের তার পারমাণবিক শক্তির প্রস্তুতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে’ নিন্দা করে। ভোটের আগে, ইউক্রেনের জাতিসঙ্ঘের রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়্যাস সাধারণ সভাকে বলেছিলেন, ‘তারা (রাশিয়া) ইউক্রেনের মাটিতে এসেছে, শুধু আমাদের কয়েকজনকে হত্যা করতে নয়…তারা ইউক্রেনকে অস্তিত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এসেছে।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া তার বক্তব্যে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এই রেজ্যুলেশনের ওপর সমর্থন পাওয়ার জন্য ‘সরাসরি এবং নিষ্ঠুর হুমকি’ দিয়ে ‘অভূতপূর্ব চাপ’ প্রয়োগ করেছে।

‘এই দলিলটি আমাদের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার অনুমতি দেবে না। বিপরীতে, এটি কিয়েভে উগ্রপন্থী এবং জাতীয়তাবাদীদের যেকোনো মূল্যে তাদের দেশের নীতি নির্ধারণ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে। প্রস্তাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এই বেআইনি বলপ্রয়োগে বেলারুশের জড়িত থাকারও নিন্দা করা হয়। অধিবেশনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আবদুল্লাহ শাহিদ বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ এই প্রস্তাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বসতঘর, স্কুল ও হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণ এবং নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগের সাথে আমি সহমত পোষণ করি। ভোটের পরপরই জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেছেন, সাধারণ পরিষদের বার্তা উচ্চৈস্বরে এবং স্পষ্ট। ইউক্রেনে শত্রুতা বন্ধ করুন এখনই। অস্ত্র বিরতি করুন এখনই। সংলাপ এবং কূটনীতির দ্বার উন্মুক্ত করুন এখনই।

অন্য দিকে ভোটদান থেকে চীনের বিরত থাকার ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন পূর্ববর্তী জাতিসঙ্ঘের বৈঠকের চেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি সমস্ত দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য এবং জাতিসঙ্ঘের সনদ অনুসারে সমস্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য বেইজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

মানবাধিকার পরিষদের জরুরি বৈঠক আজ কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, এ দিকে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদে ইউক্রেন পরিস্থিতির ওপর জরুরি অধিবেশন আজ শুরু হচ্ছে। এতে ইউক্রেনে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য একটি প্রস্তাব বিবেচনার করা হবে। এই বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের জন্য একটি প্রস্তাব জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাস হয়েছে। এতে পরিষদের ৪৭ সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কাতারসহ ২৯ সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। রাশিয়া, চীন, ইরিত্রিয়া, কিউবা ও ভেনিজুয়েলা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

এর আগে ইউক্রেনে সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত প্রস্তাব রাশিয়ার ভেটোর কারণে বাতিল হয়ে যায়। ভারত, চীন ও ইউএই এই প্রস্তাবেও ভোটদানে বিরত থাকে। বাংলাদেশ প্রাচ্য, পাশ্চাত্য ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে পররাষ্ট্র সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার নীতি অনুসরণ করছে। ইউক্রেন ইস্যুতে ইতঃপূর্বে বাংলাদেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়া নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ইউক্রেন পরিস্থিতি সম্পর্কে সব দেশকেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।

আমরা বলেছি, বিবদমান পক্ষগুলো বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা চাই না আমাদের এমন একটি পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়া হোক, যেখানে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে থেকে বাছাই করতে হবে। আমরা চাই সব পক্ষই যাতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে এবং সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পথ বের হয়।

সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উপপ্রধান মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন ইউক্রেন সঙ্কট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে আহ্বান জানান। তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধপীড়িত অঞ্চল থেকে সরে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেষ পর্যন্ত লড়বে রাশিয়া : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, কিছু বিদেশী নেতা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তবে মস্কো একেবারে ‘শেষ’ পর্যন্ত ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন লাভরভ। তবে তিনি বলেছেন, পারমাণবিক যুদ্ধের কোনো চিন্তা নেই রাশিয়ার। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের এক সপ্তাহ পর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে একজন ‘জাতিগত ইহুদি’ বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন সঙ্কটের একটি সমাধান পাওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। ইউক্রেনীয় এবং রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে পশ্চিমাদের সাথে আলোচনা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে বলে জানিয়েছেন সের্গেই লাভরভ। ৩০ কিলোমিটার দূরে রুশ সেনাবহর : এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে রাশিয়ার ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেই সেনা বহর।

কিয়েভ অভিমুখে যাত্রা করা রাশিয়ার এই সামরিক বহর গত তিন দিনেও শহরটিতে পৌঁছাতে পারেনি। কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে ইউক্রেনীয় সৈন্য এবং সাধারণ জনগণের প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে তাদের অগ্রযাত্রা কিছুটা থমকে গেছে বলে ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। মস্কো কৃষ্ণ সাগরের বন্দরনগরী খেরসন দখলে নেয়ার পরদিন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা বলেছেন, কিয়েভের দিকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি অনেক কমে গেছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনো খারকিভ এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি শহরে রুশ আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার হালনাগাদ গোয়েন্দা তথ্যে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ, ভঙুর রুশ কৌশল এবং যানজটের কারণে রাশিয়ার সামরিক বহরের প্রধান অংশটি এখনো কিয়েভ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

কিয়েভে প্রবেশের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রুশ এই বহর। কিয়েভের ৫৮ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমের বোরোদিয়ানকার একজন বাসিন্দা শত্রুপক্ষের সাথে তাদের শ্বাসরুদ্ধকর গোলাগুলির বর্ণনা দিয়েছেন রয়টার্সকে। কিয়েভের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলল রাশিয়া : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছে রুশ সামরিক বাহিনী। মস্কো থেকে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভ থেকে বাসিন্দারা দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ভ্যাসিলকিভের দিকে চলে যেতে পারবেন এবং এতে তাদের বাধা দেয়া হবে না। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ সামরিক বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্রিফিং করার সময় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগোর কোনাশেঙ্কোভ কিয়েভের বাসিন্দাদের এই প্রস্তাব দেন। ৫০০ সেনা নিহতের কথা স্বীকার রাশিয়ার : রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে ৫০০ জন রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত এক হাজার ৫৯৭ সেনা।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তৃতায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ এসব তথ্য তুলে ধরেন। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম যুদ্ধে হতাহতের তথ্য জানালো রাশিয়া।

এ সময় মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ান বাহিনীর ‘বহু সেনা’ হতাহতের তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। ১০ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে : রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার মুখে ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়ে গেছেন ১০ লাখ শরণার্থী। হামলা শুরুর পর মাত্র এক সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক এসব মানুষ ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সর্বাত্মক হামলা শুরুর পর এই এক সপ্তাহেই পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বহু শহর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সামরিক অবকাঠামোর বাইরে রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আবাসিক ভবন, স্কুল ও হাসপাতাল। জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন লাখ লাখ ইউক্রেনীয়। রক্তপাতের জন্য ন্যাটোকে দায়ী করল ইউক্রেন : রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনে ইউক্রেনে ‘নো ফ্লাই জোন’ কার্যকর করতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতি কিয়েভ আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি।

নো-ফ্লাই জোন কার্যকরে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটিতে রাশিয়ার হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির জন্য ন্যাটোকেও আংশিকভাবে দায়ী করেছে কিয়েভ। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলফা স্টেফানিশিনা বিবিসি রেডিও ৪’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নো-ফ্লাই জোন কার্যকরের সিদ্ধান্ত না নেয়ার ফলে বেসামরিক জনগণ এবং শিশুদের হত্যা করা হবে, এটি অমানবিক।

সীমান্তে বর্ণবাদের অভিযোগ : রাশিয়ার আক্রমণের মুখে ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয়ের জন্য ছুটছেন লাখ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে ইউক্রেনীয়দের পাশাপাশি বহু বিদেশী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। তবে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার বেলায় তারা ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বেছে বেছে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের গাড়িতে তুলে সীমান্ত পার করানো হচ্ছে এবং বিদেশীদের দাঁড় করিয়ে রাখা, এমনকি নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এ নিয়ে বিবিসি, সিএনএন ও আলজাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এক আফ্রিকান মেডিক্যাল শিক্ষার্থী সিএনএন’কে বলেছেন, ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের একটি চেকপয়েন্টে তাকেসহ অন্য বিদেশীদের বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের রেখে বাসটি শুধু ইউক্রেনীয়দের নিয়েই চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সোমবার লভিভ থেকে টেলিফোনে ভারতের চতুর্থ বর্ষের মেডিক্যাল শিক্ষার্থী সাক্ষী ইজান্তকারও ইউক্রেন সীমান্তে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত পেরোতে তিনটি চেকপোস্ট পার হওয়া লাগে। আপনাকে প্রথম চেকপয়েন্ট থেকে দ্বিতীয় চেকপয়েন্টে যেতে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতে হবে। ইউক্রেনীয়দের যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি ও বাস দেয়া হচ্ছে, অন্য নাগরিকদের হাঁটতে হচ্ছে।

প্রমোদতরী মালদ্বীপে সরাচ্ছে রুশ ধনকুবেররা : রাশিয়ার ধনকুবেরদের মালিকানাধীন অন্তত পাঁচটি প্রমোদতরী বুধবার মালদ্বীপে ভেসে বেড়াতে গেছে। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। জাহাজ শনাক্তকরণ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর শ্রীলঙ্কা উপকূল হয়ে এসব প্রমোদতরী মালদ্বীপে পৌঁছেছে। বুধবার রাতে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস জানায়, রাশিয়ার ধনকুবের আলিশের উসমানোভের বিশালাকার প্রমোদতরী জব্দ করেছে জার্মানি। এটি হামবুর্গের একটি শিপইয়ার্ডে রাখা আছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.