এইমাত্র পাওয়া

দুর্নীতিকে না বলছেন দুর্নীতি করা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ আজ ৯ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে এই দিনকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। এবার ২১তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ।

এরই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করেছে খোকসা সরকারি কলেজ। কলেজটি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হলেও আর্থিক অনিয়মে ডুবতে বসা কলেজটির সর্বশেষ আর্থিক অনিয়মের সংস্করণ হচ্ছে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্বে) ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ বেলাল উদ্দিন।

গত ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখে কলেজটিতে শিক্ষা ক্যাডার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহা. আব্দুল লতিফ এর যোগদানের আগের দিন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন  মোঃ বেলাল উদ্দিন। শিক্ষা ক্যাডার অধ্যক্ষ যোগদান করার ঠিক দুই দিন পূর্বে পূর্বের বিভিন্ন কাজের বিল ভাউচার দেখিয়ে একসাথে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন বেলাল উদ্দিন। যেখানে ২০ হাজার টাকার উপর কোন বিল করতে হলে অর্থ কমিটির অনুমোদন নিয়ে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে করার নিয়ম।

এছাড়াও খোকসা সরকারি কলেজ ফান্ড থেকে মাত্র চার মাসে ২৬ লাখ টাকা তছরুপ করেছেন কলেজটির অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মোঃ নাজমুল হুদা রাসেল। তিনি তার অপকর্মের সঙ্গী হিসেবে তিন জনের নাম উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্বে) ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ বেলাল উদ্দিন অন্যতম। অডিট রিপোর্টেও সহকারী অধ্যাপক মোঃ বেলাল উদ্দিনের নিরব সম্মতিতেই এই আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী  মোঃ নাজমুল হুদা রাসেল কর্তৃক অডিট কমিটিকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটিড আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়,  বিধি বহির্ভূতভাবে কলেজ জাতীয়করণ করা বাবদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও সকল শিক্ষকের অনুমতি সাপেক্ষে খরচ দেখানো হয়েছে টাকার পরিমান ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা।যদিও জাতীয়করণের জন্য কোন অর্থ খরচ করতে হয়না। এখানে সরকারি অর্থ সরকারকে ঘুষ দেওয়া হয়েছে তা দেখানো হয়েছে।

যদিও সহকারী অধ্যাপক মোঃ বেলাল উদ্দিন এর দাবি, তিনি আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত নয়। অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মোঃ নাজমুল হুদা রাসেল তার দেওয়া আর্থিক রিপোর্টে মোঃ বেলাল উদ্দিন এর নাম উল্লেখ করলেও রাসেলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না এনে তিনি অডিট কমিটিকেই দায়ী করেছেন। এর আগে তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, অডিট কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে তা মনগড়া। আমার সাথে ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক না থাকায় অডিট কমিটি আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

কলেজটির একাধিক শিক্ষক বলছেন, শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়। কলেজটির দৈনিক মুজুরি ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগে মোটা অংকের অর্থ আদায়ে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মোঃ নাজমুল হুদা রাসেলের অন্যতম সহযোগী এই বেলাল উদ্দিন।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ)  মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে অভিযোগ যাচাই বাছাই করে দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয় এরপর চিঠি ইস্যু করা হয়। এখনও আমরা যাচাই বাছাইয়ের কোন কাগজ জেলা কার্যালয় থেকে পায়নি। পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিব।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি এখনও যাচাই বাছাই করতে পারিনি। খুব দ্রুতই এটা নিয়ে কাজ শুরু করব।

আরও পড়ুনঃ

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৯/১২/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.