এইমাত্র পাওয়া

জয়ে সিরিজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

২০২৩ সালের ওডিআই ক্রিকেট বিশ^কাপে সরাসরি টিকিটের জন্য আরো এগিয়ে যেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে আজ সকাল ১১টায় শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি ও টি স্পোর্টস। আফগান সিরিজের পরই তিন ম্যাচের ওয়ানডে খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে টাইগাররা।

সেখানে জয় বেশ কঠিন হবে বলেই আফগানদের বিপক্ষে এখান থেকে তিন ম্যাচে জিতে ৩০ পয়েন্ট ঝুলিতে পুরতে চায় টাইগাররা। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত চারটি সিরিজে ১২ ম্যাচে ৮ জয় রয়েছে। জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়েতে দু’টি সিরিজ খেলেছে টাইগাররা।

জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করলেও, নিউজিল্যান্ডের কাছে তিন ম্যাচই হেরেছে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করলেও, শ্রীলঙ্কাকে ২-১ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। বর্তমানে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। সাগরিকায় এক ম্যাচ হারলেও ব্যাকফুটে চলে যাবে বাংলাদেশ। দুই দলের মধ্যে হেড টু হেড লড়াইয়ে ৮ ম্যাচের মধ্যে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

আফগানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বশেষ দু’টি ম্যাচে ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে ৩ রানে এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে ৬২ রানে জিতেছে। কিন্তু আফগানদের কাছে হারলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিধায় বাংলাদেশকে প্রতিবারই এশিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে খেলার সময় চাপে থাকতে হয় । আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে এখনো অপরাজিত আফগানিস্তান। ৬ ম্যাচে সবগুলোতেই জিতেছে তারা।

তবে আফগানদের সিরিজগুলো ছিল র্যাংকিংয়ের নিচের সারির দল আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় অনেক এগিয়ে নিবে আফগানিস্তানকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমরা জয় দিয়ে শুরু করতে চাই, এটি আমাদের লক্ষ্য। আমরা সব সময়ের মতো তিনটি ম্যাচের কথা ভাবছি না, আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যেতে চাই।’ সিরিজের উত্তেজনা বিবেচনা করে, কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসে এক সপ্তাহ আগ থেকেই অনুশীলন শুরু করে আফগানিস্তান। সিরিজের আগে সিলেটে অনুশীলন ক্যাম্প করার সুযোগ দেয় বিসিবি।

আফগান ক্যাম্পে কোভিড-১৯ থাবায়, মাত্র তিনদিনই অনুশীলন করতে পারে। তবে আফগানিস্তানের কয়েকজন খেলোয়াড় বিপিএলে খেলেছে বলে তারা বড় একটা সুবিধা পাবে। তবে আফগান স্পিন মোকাবেলার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের সাফল্য। টাইগার দলের জন্য বড় হুমকি দুই স্পিনার রশিদ খান এবং মুজিব উর রহমানের বোলিং। বিপিএলে বেশির ভাগ বাংলাদেশি খেলোয়াড় মুজিবকে সাচ্ছেন্দ্যে খেলতে পারেনি। হিমশিম খেতে হয়েছে দেশের ক্রিকেটারদের। অন্যদিকে, হোম বা অ্যাওয়ে কন্ডিশনে রশিদকে খেলা বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই কঠিন।

তামিম বলেন, ‘আমরা জানি, তাদের বিশ্বমানের স্পিনার আছে, কিন্তু আমরা আমাদের এই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চাই। তাদের তিনজন স্পিনার আছে, যারা ৩০ ওভার বল করবে, কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা হলো পুরো ৫০ ওভার ভালো খেলা।’ এ ক্ষেত্রে পেস সহায়ক হওয়ায় চট্টগ্রামের পিচ বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। যা ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উল্টো। কেননা ঢাকার পিচ সবসময়ই স্পিন সহায়ক। স্পিনার ছাড়াও আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজে খেলাটা টাইগারদের জন্য কঠিন। কেননা দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানডের বাইরে আছে বাংলাদেশ।

গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। তামিম বলেন, ‘এখানে প্রত্যেকেই পেশাদার, তাই তারা জানে, কিভাবে দীর্ঘদিন পর খেলতে হয়। তবে যে বিষয়টি আমাকে উত্তেজিত করেছে, তা হলো- আমি অধিনায়কত্ব পাবার পর প্রথমবারের মতো আমরা আমাদের পুরো শক্তির স্কোয়াড পাচ্ছি।’ ২০১৯ সালে বিশ্বকাপের প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান মুখোমুখি হচ্ছে। ২০১৬ সালের পর বাংলাদেশে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেও আফগানদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে সাগরিকার এই ভেনু।

যেখানে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে একমাত্র টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল তারা। কোনো পূর্ণ টেস্ট দলের বিপক্ষে সেটি ছিল আফগানিস্তানের প্রথম জয়। রহমত শাহের ১০২ রান এবং আসগর আফগানের ৯২ রানের পর অধিনায়ক রশিদ খানের ৫১ রানে প্রায় সাড়ে তিনশ ছুঁয়েছিল সফরকারীদের স্কোর। পরে রশিদ দেখান ঘূর্ণি জাদু। দুই ইনিংসেই পাঁচটি করে মোট ১১ উইকেট নিয়ে ২২৪ রানের জয়ে অবদান রাখেন এই লেগস্পিনার। সেই জয়ের প্রেরণা নিয়েই মাঠে নামতে চান আফগান অধিনায়ক হাসমত শাহিদি, ‘আমাদের প্রেরণা টেস্ট জয়। সেটিকে ধারণ করেই জিততে চাই। আর চ্যাম্পিয়নশীপের পয়েন্টগুলোও জরুরি।’

বাংলাদেশ দল : তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, এবাদত হোসেন, নাসুম আহমেদ, ইয়াসির আলি চৌধুরি ও মাহমুদুল হাসান জয়। আফগানিস্তান দল : হাশমত শাহিদি (অধিনায়ক), রহমত শাহ (সহ-অধিনায়ক), আজমত ওমরজাই, ফরিদ আহমাদ, ফজল হক ফারুকি, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, রিয়াজ হাসান, নাজিব জাদরান, শহিদ কামাল, ইকরাম আলিখিল, মোহাম্মদ নবি, গুলবাদিন নাইব, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, ইয়ামিন আহমেদজাই ও মালিক।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.