লেখক প্রকাশক দেখছেন আশার আলো

নিউজ ডেস্ক।।

আজ অমর একুশে। ফেব্রুয়ারির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন। করোনা মহামারী শুরুর পর বিপর্যয়ে পড়া প্রকাশনা খানে এই প্রথম আশার আলো দেখছেন লেখক ও প্রকাশকরা।

তারা বলছেন আজকের দিন থেকে পুরোপুরি জমে উঠবে বইমেলা। আর শেষ অবধি লেখক পাঠকের পদচারণায় এবার ভালো একটি মেলা হবে। তাদের প্রত্যাশা এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে মেলা হবে বাধাহীন করোনামুক্ত। বিক্রেতারা বলছেন, বইমেলা শুরুর পর প্রথম সপ্তাহের দুই দিন ছুটি শেষে গতকাল কার্য দিবস থাকলেও মেলায় সমাগম খারাপ হয়নি। বিক্রিও ছিল প্রত্যাশিত। লোকারণ্য প্রাঙ্গণে আড্ডা সেলফির সাথে স্টলগুলোতেও বিক্রির ব্যস্ততা ছিল। তবে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় গবেষণামূলক ও উপন্যাসের চাহিদা বেশি ছিল।

তরুণ-তরুণীদের উপন্যাসের শীর্ষে ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। আর অন্যান্য লেখকের মধ্যে আল মাহমুদ, জাফর ইকবাল, আকবর আলি খান, শাহাদাত হোসাইনদের বইয়ের ক্রেতা বেশি ছিলেন। যারাই এসেছেন তারাই স্টলে স্টলে নিজেদের পছন্দের লেখকের বই খুঁজে বেরিয়েছেন। তবে শিশুদের বই যারা কিনতে এসেছেন তারা সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ শিশুদের বইয়ের সারি সারি স্টল থাকলেও কেনার মতো একটা বইও খুঁজে পাওয়া দায়। তাদের মতে শিশুদের বই বিক্রেতারা রীতিমতো প্রতারণা করছেন। খারাপ কাগজে ছাপানো বইয়ে কালি থেকে শুরু করে বিষয়বস্তু পর্যন্ত সব কিছুতেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন প্রকাশকরা।

এ ছাড়া অনেকে পুরনো বইয়ের মলাট বদলে তা নতুন বই হিসেবেও চালিয়ে দিচ্ছেন। এর বাইরে বইয়ের দাম নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। পাঠকদের মতে, বিক্রির শীর্ষে থাকা বইগুলোতে যে দাম রাখা হচ্ছে, তা তুলনামূলক বেশি। তাদের মতে প্রতিটি বইয়ে অন্যান্য বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।

ক্রেতাদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ বিক্রেতারা। তারা বলছেন, করোনা শুরুর পর বিপর্যয়ে পড়া এ খাতে এ পর্যন্ত যে লোকসান হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লাগবে। কারণ মহামারীর বিগত দুই বছরে এ খাতে ব্যবসা তো দূরে থাক, শুধু টিকে থাকতে তাদের যে লড়াই করতে হয়েছে তার ক্ষত শুকাতে এখনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

সুতরাং দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিগত সময়ের লোকসানের হিসেবে হয়নি। বর্তমানে কাগজ-কালির দামবৃদ্ধির হিসেবেই হয়েছে। বই ছাপতে গেলে দাম বৃদ্ধি ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না। আজ ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করে বিক্রেতারা জানান, তাদের ধারণা এ বছর ব্যবসা ভালো হবে। মেলা ১৫ দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, যেহেতু ১৫ দিন পিছিয়ে শুরু হয়েছে; সুতরাং বাদ পড়া সময়গুলো বাড়ানো প্রয়োজন।

কারণ এবার করোনা থাকলেও পাঠক মেলামুখী হয়েছেন; যা গত দুই বছর দেখা যায়নি। তাই এবার মেলা এক মাস হলে কিছুটা হলেও খাদে পড়া এ খাত প্রাণ ফিরে পাবে। গতকাল বইমেলার ষষ্ঠ দিনে মেলা চলে বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টা বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বিশ্বশান্তি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিয়া রহমান।

আলোচনায় অংশ নেন জালাল ফিরোজ ও খান মাহবুব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্যামসুন্দর সিকদার। আজ সপ্তম দিনে মেলার কপাট খুলবে সকাল ৮টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় এসেছে বিশিষ্ট সংবাদ পাঠক, খ্যাতিমান উপস্থাপক, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরীর দু’টি বই। যার একটি হলো কিশোর উপন্যাস ‘দোতনা আর ছোট মামা এবং স্কটল্যান্ডের ভূত’। আর ছড়াগ্রন্থ ‘ছড়ার মালা গাঁথবো এসো’।

এগুলো প্রকাশ করেছে অন্যধারা প্রকাশনী। এ ছাড়া প্রথমা প্রকাশন প্রকাশ করেছে মিজানুর রহমান খানের বই ‘জেনারেল জ্যাকবের মুখোমুখি’ ও আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘ল্যু সালোমে এবং নিৎসে, রিলকে ও ফ্রয়েড। এছাড়া মেলায় পাওয়া যাচ্ছে অদম্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত রফতানি বিশেষজ্ঞ জাহিদ হোসাইনের হাতে কলমে এক্সপোর্ট বিজনেস।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.