অটোপাসকেও ছাড়িয়ে গেছে ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ভালো ফলাফল করেও উচ্চশিক্ষায় ভালো মানের প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের চাহিদা ও পছন্দমতো ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে প্রতি বছরের মতো এ বছরও সংশয় রয়েছে। এ বছর সব বোর্ড মিলে জিপিএ ৫ পেয়েছেন এক লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন শিক্ষার্থী। মোট পাস করেছেন ১৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। যদিও শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সব বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলে বর্তমানে যে পরিমাণ সিট রয়েছে তাতে কোনো একজন শিক্ষার্থীও ভর্তির বাইরে থাকবে না। অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র বলছে দেশের সব প্রতিষ্ঠান মিলে শিক্ষার্থী ভর্তিতে আসনসংখ্যার সঙ্কট না হলেও ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা হবে তীব্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। আর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য মতে, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজারের মতো। তারপরও উচ্চশিক্ষা অর্জনে শঙ্কায় আছেন শিক্ষার্থীরা। লড়তে হবে ভর্তিযুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানের মান ও সুযোগ সুবিধার বিচারে এই শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা। উল্লেখ্য, গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত ফলে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন এক লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন।

পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা করোনার কারণে নেয়া সম্ভব না হলেও সব শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় অটোপাস। তবে বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এইচএসসির ফলাফল পর শিক্ষার্থীদের ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। উচ্চশিক্ষা অর্জনে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আসন নিশ্চিত করতে যুদ্ধে নামেন তারা। প্রতি বছর আসনের তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও অনেকেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিতে পারেন না। এর কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে অনেকেই পড়াশোনা এগিয়ে নেন না। এ ছাড়া পরিবারের আর্থিক সমস্যায়ও অনেকে ছিটকে পড়েন।

গতকাল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা জানা গেছে প্রথম সারির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সে তুলনায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত আসন নেই। ফলে অনেকে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান না। আবার কেউ কেউ নিজ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে সেখানে স্থান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি অধিক হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার সেটি বহন করতে পারে না। ফলে উচ্চশিক্ষা অর্জন অধরাই থেকে যায় অনেকের। অবশ্য শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ বিশ্বব্যাপী সীমিত। যার কারণে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, সারা বিশ্বেই এই প্রতিযোগিতা হয়েছে।

বিশ্বের কোথাও পছন্দসই বিষয়ে পড়ার সুযোগ সবাই পায় না। পছন্দের বিষয়ে পড়তে গিয়েই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। উচ্চশিক্ষা অর্জনের আসন কম নেই জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি আসন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই আসন রয়েছে দুই লাখের বেশি। এদিকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন, সবাইকেই উচ্চমাধ্যমিকের পর আরো পড়তেই হবে এমন ধারণা পৃথিবীর কোথাও নেই। তারপরও আমাদের পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। প্রতি বছর নির্ধারিত আসনের চেয়েও কিছু আসন খালি থেকে যায়।

এ বছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে সিলেবাস কেমন হবে তা নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। কেউ কেউ বলছেন পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হলেও ভর্তি নেয়া হবে পুরো সিলেবাসেই। তবে এ বিষয়ে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, পরীক্ষা যেহেতু সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হয়েছে তাই ভর্তি পরীক্ষাও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হোক এটা আমার মত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেহেতু স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তাই তারাই মূলত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা পরামর্শ দেবো যাতে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই পরীক্ষা নেয়া হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.