এইমাত্র পাওয়া

উপাচার্য পদে কি আছে ?

নিউজ ডেস্ক।।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হলেন একজন উপাচার্য। তিনি ছাত্র-শিক্ষক সকলের অভিভাবক। কিন্তু দেখা যায় যে, বাংলাদেশে এখন উপাচার্য পদগুলো যেন অন্যরকম হয়ে উঠেছে। এই উপাচার্য পদগুলো যেন ক্রমশ লাঠিয়ালদের দখলে চলে গেছে। উপাচার্য পদে যেন মৌচাকের মধুর বাসা বাঁধে। আর সেকারণেই যারা উপাচার্য হন তিনি আর ঐ পদ ছাড়তে চান না। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতীতে যারা উপাচার্য হতো তাদেরকে শিক্ষকরা শ্রদ্ধা করতেন, ছাত্ররা শ্রদ্ধা করতেন। সাধারণত তিনি একজন জ্ঞান চর্চাকারী এবং সকলের কাছে আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত থেকে থাকতেন। কিন্তু নব্বইয়ের দশক থেকে এই অবস্থা পাল্টাতে শুরু করে। উপাচার্য পদগুলো হয়ে যায় রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া পদ। উপাচার্য পদটি হয়ে যায় দলীয় আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে। যে দল যখন ক্ষমতায় আসে সেই দলের একান্ত অনুগত ব্যক্তিকে উপাচার্য করা হয়। আর তিনি উপাচার্য হয়ে ছাত্র এবং শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে তিনি তার আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত হন। আর যখন তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন শিক্ষার্থীরাও ফুঁসে ওঠে। কিন্তু ফুঁসে উঠলে কি হবে, উপাচার্য পদে কি যেন এক মধু আছে। তারা তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। ফলে শিক্ষাঙ্গনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যেমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। শিক্ষকতা বাইরে তার গার্মেন্টস ব্যবসা আছে বলে কোনো কোনো মহলে বলা হয়। সম্প্রতি সময়ে তিনি শুধুমাত্র পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে তার শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে দেননি বরং তিনি শিক্ষার্থীদের সম্বন্ধে অসম্ভব, অরুচিকর মন্তব্য করেছেন। অবশ্য এখন তিনি বলছেন যে, এই বক্তব্য তার নয়। কিন্তু অডিও ক্লিপটি শুনলে বোঝা যায় যে, এটি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনেরই বক্তব্য। তিনি বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের বিয়ে হয় না কারণ তারা রাতে ঘোরাফেরা করে। এখন উপাচার্য যদি ঘটকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তাহলে তো বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি হাল সেটা বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয়।

উপাচার্য একজন পিতৃতুল্য। তার বিরুদ্ধে যদি শিক্ষার্থীদের একজনও যৌক্তিক আপত্তি জানায় এবং তিনি যদি মনে করেন যে, এই আপত্তিটির পিছনে যুক্তি আছে তাহলে তার সরে যাওয়া উচিত। এটাই একজন শিক্ষকের কর্তব্য বলে মনে করা হয়। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে তার পদত্যাগ চাইছে, অথচ তিনি পুলিশ পাহারা দিয়ে দিব্যি বাংলোতে বসে আছেন। তিনি বলছেন যে, সরকার যদি তাকে সরিয়ে দেয়, তাহলে তিনি সরে যাবেন। এটি কেমন কথা? উপাচার্যের কি মান-মর্যাদা বলে কোন কথা নাই? ধরা যাক, তিনি উপাচার্য নন, একজন শিক্ষক। তিনি যখন শিক্ষার্থীদের কাছে সমস্ত শ্রদ্ধা-ভক্তি হারিয়ে ফেলেছেন তখন কি তার উপাচার্য পদে থাকাটা উচিত?

আমাদের কিছু কিছু শিক্ষক এখন আমাদের শিক্ষাঙ্গনকেই কলঙ্কিত করছেন। তাদের চাটুকারিতা, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, দুর্নীতি এমনকি তাদের নোংরা লোভ পুরো শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করেছে। আর সেই কলুষ থেকে আমরা এখন কোন মুক্তির পথ পাচ্ছিনা। ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে কেন সরকার সরে যেতে বলবে? এই বিষয়টি তো সরকারের নয়। সরকারকে কেন তিনি জিম্মি করছেন তার পদে টিকে থাকার জন্য। বিষয়টি হলো, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি কিছু অপকর্ম করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে। তার অপকর্মের অভিযোগগুলো সত্যি হোক না হোক, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল শিক্ষার্থী তার পদত্যাগ চাইছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তার সরে যাওয়াটাই উত্তম। কিন্তু উপাচার্য পদে যে কি মধু আছে আমরা জানি না।

যখনই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম ছাত্র আন্দোলন ঘটেছে উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য, দু-একজন ব্যতিক্রম বাদে কেউই পদত্যাগ করেননি। ফলে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের শিক্ষকদের যে অবয়বটা সেই অবয়বটা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। বরং শিক্ষক হিসেবে আমরা দেখছি চাটুকার, লেজুড়বৃত্তি করা আদর্শহীন কিছু দুর্বিনীত ব্যক্তিকে। আমরা মনে করি যে, উপাচার্য পদে প্রকৃত শিক্ষকদের আনা উচিত যারা শিক্ষাকে সবার আগে মর্যাদা দিবেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি-শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.