এইমাত্র পাওয়া

সম্পদের হিসাব দিতে সাড়া নেই সরকারি চাকরিজীবীদের

নিউজ ডেস্ক।।

বিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দিতে দেড় বছরের বেশি সময় আগে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চিঠি দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অধীন দফতর-সংস্থাসহ নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাগিদ দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু সম্পদের হিসাব দিতে সাড়া নেই সরকারি চাকরিজীবীদের। এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে সভায় বসছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন এই সভা হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়া নিয়ে একটি ডাটাবেজও তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সহজে হিসাব জমা দেওয়ার জন্য একটি ফরমও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্পদের হিসাব চেয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাড়া মিলছে না এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম বলেন, আমরা এটা (সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দেওয়া) নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি মিটিং ডাকবো। সেই মিটিংয়ে সব কিছু পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। আমরা আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাবো। সভায় আমাদের মন্ত্রণালয়ের লোকজনই থাকবেন। সভার তারিখটি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘চাকরিজীবন পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে। যার পাঁচ বছরের কম হয়েছে তিনি তো দেবেন না। আলী আজম আরও বলেন, আমরা একটা ডাটাবেজ তৈরি করবো, কার কবে পাঁচ বছর পূর্ণ হয়, সেভাবে তাকে হিসাব দিতে হবে। আমরা একটা নতুন ফরমও ডেভেলপ করবো, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহজে সম্পদের হিসাব আমাদের কাছে দাখিল করতে পারেন। আগে আমরা সভাটা করি। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী দাখিল ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির অনুমতি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নিয়ম মানছেন না।

এ বিষয়ে এতদিন সরকারেরও কোনো তদারকি ছিল না।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিধিমালাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী দাখিল ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির নিয়ম মানতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিবদের কাছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গত বছরের ২৪ জুন চিঠি পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির পর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দিতে চিঠি পাঠায়। এতে সাড়া না মেলায় ফের তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর গত বছরের ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব চায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে সাড়া না দেওয়ায় গত ৬ জানুয়ারি আবারও তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। সেই চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি ১১, ১২ ও ১৩- তে সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, বিক্রয় ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত বিধিগুলো কার্যকরভাবে কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণী দাখিল ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির ক্ষেত্রে ছক পূরণ করে প্রশাসন-১ শাখায় পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা/কর্মচারীকে চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘কিন্তু অদ্যাবধি এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ছক অনুযায়ী সম্পদের হিসাব মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখায় পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত বছরের ১৮ আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অধীনস্থ দফতর-সংস্থা ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কমিশনার ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে এই চিঠি দেওয়া হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দেয়। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ গত বছরের ১৮ আগস্ট সম্পদের হিসাব দিতে কর্মচারীদের চিঠি পাঠায়। গত বছরের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দেয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হিসাব চেয়ে অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিঠি দেয় ১৫ জুলাই। পরে ১২ আগস্ট গণপূর্ত অধিদফতরও সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়।

গত বছরের ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৪ শাখার উপ-সচিব নাফিসা আরেফীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি ১১, ১২ ও ১৩-তে সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, বিক্রয় ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত বিধিগুলো কার্যকরভাবে কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে জোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ অবস্থায়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর আওতাভুক্তদের তাদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/দফতর/অধীন সংস্থায় কর্মরত সব সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী দাখিল, ওই সম্পদ বিবরণীর ডাটাবেজ তৈরি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে স্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও বিক্রয়ের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ১১, ১২ ও ১৩ বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই চিঠিতে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীর জমি/বাড়ি/ফ্ল্যাট/সম্পত্তি ক্রয় বা অর্জন ও বিক্রির অনুমতির জন্য আবেদনপত্রের নমুনা ফরম ও বিদ্যমান সম্পদ বিবরণী দাখিলের ছকও চিঠির সঙ্গে পাঠানো হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.