এইমাত্র পাওয়া

এনসিটিবি চেয়ারম্যান ওএসডি

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণচন্দ্র সাহাকে ওএসডি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দেয় সরকার। এসব বই ছাপানো এবং সরবরাহের দায়িত্বে থাকে এনসিটিবি।

তাদের ‘গাফিলতিতে’ এবার ফেব্রুয়ারির আগে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের কাজ শেষ হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রেষণ প্রত্যাহার করে এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেখতে যান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সেখানে পাঠ্যবই ছাপার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।

সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এনসিটিবির চেয়ারম্যানও। দীপু মনি জানান, সব বই শিক্ষাবর্ষের প্রথম ক্লাসে বিতরণ করা যাবে না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বই পাবেন। কত শতাংশ শিক্ষার্থী পাবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘৫ শতাংশ বইয়ের কাজ ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে না।’ মন্ত্রী জানান, মাধ্যমিকে ইতোমধ্যে ২১ কোটির বেশি বই বাঁধাই হয়ে গেছে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে প্রায় সব বই হয়ে যাবে। তার পরও কিছু বাদ থাকলে সেগুলোও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দেওয়া যাবে।

নতুন বছর থেকে দুই শ্রেণিতে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষাক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কথা ছিল, সেগুলোয় জানুয়ারির পরিবর্তে ফেব্রুয়ারিতে বই দেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। সময়মতো বই ছাপার কাজ শেষ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, হাতেগোনা দুই-একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের শর্ত নিয়ে প্রতিবারই জটিলতা তৈরি করে; কিন্তু এনসিটিবি তাদের শাস্তির আওতায় আনে না এবং প্রতিবছর নানা অভিযোগের পরও তাদেরই বড় বড় কাজ দিয়ে থাকে।

এনসিটিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ- পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিতে পুনঃদরপত্র আহ্বান করায় মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। অপরদিকে প্রাথমিকের অর্ধেকের বেশি বই ছাপার কাজ একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি গত বছর নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পরও শতভাগ বই দিতে পারেনি। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য দরপত্রের মাঝখানে হঠাৎ সংশোধনী আনে এনসিটিবি। স্কুলের বই ছাপতে সাধারণত তিন মাস সময় পায় ছাপখানাগুলো। এবার মাসখানেক কম সময় পাওয়ায় জানুয়ারির মধ্যে বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.