নিজস্ব প্রতিবেদক।।
এই ১২টি বিন্দু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিন্দু। ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, তাই মানুষ সেখানে যেতে পারে না। একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে, সেখানেও মানুষ যায় না। শুধু একটি বিন্দু পড়েছে সমতল মাটিতে, যেখানে মানুষ যেতে পারে। আর সেই বিন্দুটিই পড়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের কৃষি জমিতে।
ফরিদপুর জেলা শহর থেকে ভাঙ্গা সড়কের পুখুরিয়া নামক স্থান থেকে সদরপুর উপজেলার দিকে যেতে স্থানীয় বাইশরশি শিব সুন্দর একাডেমি সংলগ্ন তিন কিলোমিটার এগোলে ভাঙ্গারদিয়া গ্রাম। সেখানে বিল ধোপডাঙ্গা মৌজার প্রায় পাঁচ একর কৃষি জমিকে প্রাথমিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’ প্রকল্পের জন্য নির্ধারন করা হয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক মানের মানমন্দির’ ও পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে, বদলে যাবে জীবনধারা। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
নির্ধারিত এলাকাটি গুগল ম্যাপেও খুব সহজেই ছেদবিন্দুটি দেখা যায়। ফরিদপুরের কাছে ভাঙ্গা, গুগল ম্যাপে গিয়ে ২৩.৫ঘ ৯০ঊ লিখলে সেটি কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা কোথায় ছেদ করেছে সেটা দেখা যাবে।
এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র স্থাপনে এ বছরের (২০২১) ১ জুন একনেকে একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে মহাকাশ অবলোকন করা যাবে। এছাড়া মহাকাশ গবেষণার সুযোগও তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত থেকে শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অংশ নেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত কেন্দ্রে সাধারণ জনগণের জন্য থাকবে বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ। এছাড়া এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অ্যাষ্ট্রনমি বা অ্যাষ্ট্রফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনের সুযোগ থাকবে। গবেষকদের জন্য থাকবে মহাকাশ বিজ্ঞানে গবেষণার সুযোগ।
এছাড়া কেন্দ্রটি একটি শিক্ষা সহায়ক বিনোদন কেন্দ্র্র হিসেবে গড়ে উঠবে। যার সুবিধা পেতে শুধু বাংলাদেশী নয়, বিদেশি পর্যটকদেরও আগমন ঘটবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন হবে। জাতীয় জীবনের আর্থ-সামাজিক পরিসরে ইতিবাচক দিকে গতি সঞ্চার করবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সূচক।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ইতোমধ্যে একাধিকবার ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের ওই জমি সরকারি লোকজন পরিদর্শন করেছেন। আন্তর্জাতিক মানের এ মানমন্দির ও পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করতে বেশ কয়েক একর জায়গার প্রয়োজন হবে। তবে এখানে বঙ্গবন্ধুর নামে মানমন্দির নির্মিত হলে তা হয়ে উঠবে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
