আহাদুল ইসলাম শিমুল, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা:
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে করোনা মহামারির পর থেকে বাল্যবিয়ের সংখ্যা হুহু করে বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে করোনাকালে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা অনেক ক্ষেত্রেই বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা যায়। তবে বাল্যবিয়ের লাগাম টানতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইন্দুরকানীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন্নেসা খানম। তিনি ইন্দুরকানীতে যোগদান করেছেন মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি ৬ টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। জরিমানাও করেছেন প্রতিটি বিয়েতে।
এমনকি মুচলেকা দিয়ে তারপরে মুক্তি পেতে হয়েছে বাল্যবিয়ের বর, কনেসহ তাদের অভিভাবকদের। চলতি বছরের ২৭ জুলাই পাড়েরহাট আবাসনে, ৮ অক্টোবর ইন্দুরকানীর সেউতিবাড়িয়া গ্রামে, ২৬ অক্টোবর পাড়েরহাটের লাহুরী গ্রামে, ১৫ নভেম্বর বালিপাড়ার ডাক দিয়ে যাই সংলগ্ন এলাকায়, ৫ ডিসেম্বর চরবলেশ্বর গ্রামে, ১০ ডিসেম্বর ঢেপসাবুনিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠান ভেঙে দেন ইউএনও মোসাম্মাৎ লুৎফুন্নেসা খানম। প্রতিটি বিয়েতে নিজে পুলিশসহ হাজির হয়ে জরিমানা করেন তিনি।
এছাড়া যত দিনে বর ও কনে প্রাপ্ত বয়স্ক না হবে তত দিনে বিয়ে দিতে পারবে না মর্মে মুচলেকা গ্রহণ করেন অভিভাবকদের কাছ থেকে। এটা করেই তিনি থেমে থাকেন না। পরবর্তীতে ওই কনের পরিবারের খবর রাখেন নিয়মিত। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাল্যবিয়ে রোধে উঠান বৈঠক, সভা, সেমিনার ও মতবিনিময়ের আয়োজন করে সবাইকে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দি”েছন তিনি।
এভাবেই বাল্যবিয়ের প্রবনতা বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইন্দুরকানীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন্নেসা খানম। কেন বাল্যবিয়ের প্রবনতা বেড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্দুরকানী সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবেরা সুলতানা জানান,‘ইন্দুরকানী উপজেলাটি তিন দিক থেকে নদী বেষ্টিত। তাই এখানকার আধিকাংশ মানুষ নি¤œ আয়ের। যাদের অধিকাংশের জীবিকা নদীতে মাছ শিকার ও জমিতে ধান চাষের উপরে নির্ভরশীল। তাই দারিদ্রতার কারনে কন্যা সন্তানদের প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই বিয়ের ব্যব¯’া করা হয়।
এছাড়া করোনাকালে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে থাকতে থাকতে অনেক শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি বেড়ে গিয়েছে। অনেকে জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যাটিং গ্রæপে। ফলে নৈতিকতার বদলে অনৈতিক নানা কার্যকলাপে জড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন অভিভাবকরা।
এছাড়া ইভটিজিংও বাল্য বিয়ের একটি বড় কারণ।’ এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন্নেসা খানম জানান, আমাদের সমাজের বড় একটি অভিশাপ হচ্ছে বাল্যবিয়ে। তাই এই অভিশাপ থেকে ইন্দুরকানীকে রক্ষা করায় সকল ধরনের পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। কোন অভিভাবক যদি তাদের কন্যা সন্তান নিয়ে আশঙ্কায় থাকেন তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে। ইন্দুরকানীতে কোন ভাবেই বাল্যবিয়ে হতে দেয়া হবে না। সামাজিক সকল সমস্যার সমাধানে সর্ব সাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
