হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাসের কিছু লক্ষণ রয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ‘ইকেজি’সহ আরও কয়েকটি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। যদিও সবার ‘হার্ট অ্যাটাক’ একই রকম হয় না। তবে কিছু উপসর্গ আছে যা অনেকটাই নিশ্চিত করে দেয় যে রোগীর ‘হার্ট অ্যাটাক’ হচ্ছে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
চাপ লাগার মতো বুক ব্যথাঃ
হার্ট অ্যাটাকের কারণে যে বুক ব্যথা হয় তা তীঘ্ন বা সুঁচালো হয় না। বরং মনে হয় কেউ আপনার হৃৎপিন্ডটাকে চেপে ধরেছে, কিংবা বুকের ওপর প্রচন্ড ভারি কিছু একটা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক রোগী বলেন তাদের মনে হয়েছিল বুকের ওপর হাতি বসে আছে।
দম আটকে আসাঃ
দম আটকে আসাঃ
হার্ট অ্যাটাকের কারণে পুরো শরীরে রক্ত সঞ্চালন করার ক্ষমতা কমে যায় হৃদযন্ত্রের। ফলে ফুসফুস ও শরীরের অন্যান্য ‘টিস্যু’তে তরল জমা হতে শুরু করে। ফুসফুস জমে যাওয়া রক্ত, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয় অনেকটা। ফলে দম আটকে যাওয়ার অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
প্রচন্ড ঘাম:
প্রচন্ড ঘাম:
বুক ব্যথার সঙ্গে যদি কারও প্রচন্ড ঘাম হয়, তবে তা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘কোল্ড সোয়েট’। এমন অবস্থায় ঠান্ডা ঘরে থাকার পরও ঘামে রোগীর গায়ের জামা ভিজে যাওয়া সম্ভব।
বমি:
বমি:
বুক ব্যথা আর দম আটকে আসার সঙ্গে যদি বমি হয় তবে তা বড়ই দুশ্চিন্তার বিষয়। ধারণা করা হয় হৃদযন্ত্রের কোষ দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণে এই বমি হয়। এমতাবস্থায় দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
মাথা হালকা হয়ে আসা:
মাথা হালকা হয়ে আসা:
এই অনুভূতির সঙ্গে রোগীর মনে হয় সে শিগগিরই জ্ঞান হারাতে যাচ্ছে। এর কারণ হল মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছাতে পারছেনা। হৃৎস্পন্দনের তাল হারানো, হৃদযন্ত্রের রক্ত সরবরাহের ক্ষমতা নষ্ট হওয়া ইত্যাদির কারণে হার্ট অ্যাটাক হওয়া রোগীর মাথা হালকা হয়ে আসার অনুভূতি হয়।
বুক জ্বালাপোড়া:
বুক জ্বালাপোড়া:
হার্ট অ্যাটাকে সাধারণত বুকের একপাশে ব্যথা হলেও বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। বদহজম কিংবা গ্যাসের ওষুধ খেলে এই সমস্যা কিছুটা সেরে গেলেও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তখনও বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
হাত ব্যথা:
হাত ব্যথা:
বুকের ব্যথা বাম হাতে স্থানান্তরিত হওয়াকে সবসময়েই হ্যার্ট অ্যাটাকে লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু বাম হাত নয়, ডান হাতে ব্যথা স্থানান্তরিত হওয়াও হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস হতে পারে। রোগীরা এই ব্যথাকেও প্রচন্ড চাপ অনুভূত হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন।
কাঁধের রক্তনালী ফুলে ওঠাঃ
কাঁধের রক্তনালী ফুলে ওঠাঃ
হৃদযন্ত্রের কাজ হল পুরো শরীরে রক্ত ‘পাম্প’ করা। হার্ট অ্যাটাক থেকে হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এই ‘পাম্প’ করার কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে হৃদযন্ত্রে ফিরে যাওয়া রক্তগুলো রক্তনালীতে আটকা পড়ে। যে কারণে রক্তনালী ফুলে উঠতে থাকে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
