এইমাত্র পাওয়া

বিশ্ব পুরুষ দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক।।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বছরের ১৯ নভেম্বর তারিখে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালিত হয়। সারা বিশ্বে পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

বাংলাদেশে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের’ কর্মসূচি-

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে র‍্যালি ও সেমিনারের আয়োজন করেছে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম জানিয়েছেন, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা বাংলাদেশেও দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পুরুষরা পরিবার, সমাজ তথা গোটা বিশ্বে যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে দিবসটি তারই স্বীকৃতি স্বরূপ।

তিনি বলেছেন, যেসব মহাপুরুষ যুগে যুগে এই মানবসভ্যতা বিনির্মাণে আত্মত্যাগ করে গেছেন, দিবসটি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দিবস পুরুষ এর কল্যাণার্থে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। পুরুষ দিবসের ৬টি প্রধান প্রতিপাদ্যের মধ্যে অন্যতম ‘নারী ও পুরুষের আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়ন এবং নারী ও পুরুষ উভয় এর লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণ।

এই লক্ষ্যে ২০২১ সালের পুরুষ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘নারী-পুরুষের লিঙ্গ সম্পর্ক উন্নয়ন’। প্রতি বছরের ন্যায় বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় এবং ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’।

১৯ নভেম্বরের কর্মসূচি-

১) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে জড়ো হয়ে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির শুভ উদ্বোধন।

২) সকাল সাড়ে ১০টায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি।

৩) সকাল সাড়ে ১১টায় র‍্যালি পরবর্তী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠান। যেখানে উপস্থিত থাকবেন সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

৪) দুপুর ১টায় সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা।

দিবসটির ইতিহাস-

১৯৯৪ সালে প্রথম পুরুষ দিবস পালনের প্রস্তাব করা হয়। যদিও এর ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯২২ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে পালন করা হতো রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে। মূলত পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে দিনটি পালন করা হতো।

২০০২ সালে দিবসটির নামকরণ করা হয় ‘ডিফেন্ডার অফ দ্য ফাদারল্যান্ড ডে’। রাশিয়া, ইউক্রেনসহ তখনকার সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোতে দিবসটি পালন করা হতো। বলা যায়, নারী দিবসের অনুরূপভাবেই দিবসটি পালিত হয়। এরপর ষাটের দশক থেকেই পুরুষ দিবস পালনের জন্য লেখালেখি চলছে। ১৯৬৮ সালে মার্কিন সাংবাদিক জন পি হ্যারিস নিজের লেখায় দিবসটি পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সবশেষ নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ দিবস পালনের জন্য বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যদিও অনুষ্ঠানগুলো খুব একটা প্রচার পায়নি। এমনকি অংশগ্রহণও ছিল ভীষণ কম। পরবর্তীকালে ১৯ নভেম্বর পুরো বিশ্বে পুরুষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.