নিউজ ডেস্ক।।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২ ডিসেম্বর। এতে অংশ নেবে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩ হাজার ৯০১ জন। তবে একাদশ শ্রেণির নিবন্ধন থেকে ফরম পূরণ পর্যন্ত ঝরে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা উপলক্ষে আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে বিশেষ নির্দেশনা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল নিজ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কখনো কখনো কোচিং সেন্টার থেকে বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হয়। তাই পরীক্ষা চলাকালীন সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদারক করছে।
এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের বিষয়ে দীপু মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা গেলেও কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা করছেন না। আমরা আশা করব, অভিভাবকরা এটি মেনে চলবেন।
যানজটের কারণে পরীক্ষার হলে পৌঁছতে শিক্ষার্থীদের দেরি হচ্ছে- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে যেসব পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রী বেশি থাকে, সেগুলো দেরিতে বা ‘অফিস আওয়ার’ শুরুর পরে পরীক্ষা শুরু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে ভাবছি। এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছি। এবারও তার ব্যত্যয় হবে না,
বছরের শুরুতে নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা। তবে গত বছরের মতো
এবারো পাঠ্যপুস্তক উৎসব করা সম্ভব হবে না।
প্রশ্নপত্রে মানবণ্টন : বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা এমসিকিউ ২৫টির মধ্যে ১২টির উত্তর দেবে। সময় থাকবে ১৫ মিনিট। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ৮টি প্রশ্নের মধ্যে ২টির উত্তর দিতে হবে। সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।
পরীক্ষা শুরুর পূর্বে কক্ষ প্রত্যবেক্ষকরা উচ্চস্বরে বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই অবহিত করবেন।
মানবিক ও ব্যবসায় শাখা পরীক্ষার্থীদের জন্য এমসিকিউ ৩০টির মধ্যে ১৫টির উত্তর দিতে হবে। এজন্য সময় থাকবে ১৫ মিনিট। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ১১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩টির উত্তর দিতে হবে। সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর শেষ হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ১৯ ডিসেম্বর। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৮ ডিসেম্বর শেষ হবে।
যেভাবে পরীক্ষা হবে : চলতি বছর এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুধু গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষার সময় ও নম্বর হ্রাস করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রহণ করা হবে। আবশ্যিক বিষয় ও চতুর্থ বিষয়ের কোনো পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না।
এ ছাড়া জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ‘বিষয় ম্যাপিং’ করে আবশ্যিক ও চতুর্থ বিষয়ের নম্বর দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড অনুযায়ী চতুর্থ বিষয়ের নম্বর সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২১-এর ফলে নম্বর প্রদান করা হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা : কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী, পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় থাকবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে, সকাল ১০টায় বিতরণ করা হবে বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র।
১০টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) সংগ্রহ করে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। আর বেলা ২টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। বেলা ২টায় বিতরণ করা হবে বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র। বেলা ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী (ওএমআর শিট) উত্তরপত্র সংগ্রহ করে দেওয়া হবে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র।
ব্যবহারিক বিষয়ে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক খাতার (নোটবুক) অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক খাতার নম্বর প্রদান করে নম্বরগুলো ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক খাতার নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখ করা বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
