দাম্পত্যজীবন মানবজীবনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সুতরাং দাম্পত্যজীবনের সূচনাপর্ব ‘শুভবিবাহ’ সুন্নত অনুযায়ী ও শরিয়াহসম্মতভাবে সম্পাদন হওয়াই বাঞ্ছনীয়।দাম্পত্যজীবনের প্রবেশের লক্ষ্যে নর-নারীর যুগলবন্দি হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাংলায় ‘বিবাহ’ বা ‘বিয়ে’ বলা হয় ইসলামে দেনমোহর নারীর অধিকার, যা অবশ্যই স্ত্রীকে প্রদান করতে হবে।মোহর কম হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
অনেকেই মনে করেন, দেনমোহরের টাকা স্ত্রীকে দিতে হয় শুধু বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটলে। এটা অজ্ঞতা ও চরম ভুল ধারণা। বিয়েবিচ্ছেদ না হলেও দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করা ফরজ।
ইদানীং অভিযোগ উঠেছে, একশ্রেণির নারী বিয়ের দেনমোহরকে ব্যবসায়ে পরিণত করেছে। বিয়ের কিছুদিন পর পরকীয়া কিংবা তুচ্ছ অজুহাতে বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে দেনমোহরের পুরো টাকা বরকে বহন করতে হয়। ইতঃপূর্বে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে ব্যানারে লেখা ছিল- ‘মেয়ে যদি তালাক দেয়, ছেলেকে কেন দেনমোহর দিতে হবে।’ যত বিপদ ছেলেপক্ষের। অনেক সময় সমাজপতিদের চাপের মুখে ছেলেপক্ষ অতি উচ্চমূল্যে দেনমোহর নির্ধারণ করলেও তার পরিণতি ভোগ করতে হয় নতুন বউকে।
এ কথা বলেও পাত্রপক্ষকে প্রবোধ দেয়া হয়- এসব দেনমোহর তো শুধু কাগজে-কলমে; বাস্তবে কি আর এসব দেয়া লাগে? অথচ ইসলামের বিধান অনুসারে দেনমোহর সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করে দেয়া উচিত।
অনেক সময় দেখা যায়, যখন কোনো স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়, তখন তার গয়নাগাটি রেখে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। যেহেতু নিকাহনামায় লেখা থাকে, উসুল হিসেবে গয়না দিয়ে দেনমোহর পরিশোধ করা হল, সেহেতু পরবর্তীকালে এটি প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে- স্বর্ণালংকার তার কাছে নেই এবং পুরো স্বর্ণালংকার পাত্রপক্ষ আত্মসাৎ করেছেন।
ছেলেপক্ষ যে অর্থ দেয়, তা হল দেনমোহর; আর মেয়েপক্ষ যা দেয়, তা হল যৌতুক। মেয়ের বাড়িতে শর্ত করে আপ্যায়ন গ্রহণ করাও হারাম ও যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত। যৌতুক চাওয়া ভিক্ষাবৃত্তি অপেক্ষা নিন্দনীয় ও জঘন্য ঘৃণ্য অপরাধ।
দেশের আইনেও যৌতুক শাস্তিযোগ্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। যৌতুকের শর্তে বিয়ে সম্পাদিত হলে, বিয়ে কার্যকর হয়ে যাবে; কিন্তু যৌতুকের শর্ত অকার্যকর বলে বিবেচিত হবে। ইসলামী শরিয়তের বিধানমতে, অবৈধ শর্ত পালনীয় নয়; বরং বাধ্যতামূলকভাবেই তা বর্জনীয়।
এটি পুরুষদের কাছ থেকে নেয়া এক ধরনের যৌতুক। যেহেতু বিয়েতে পুরুষদের যৌতুক প্রথার বিলোপ ঘটেছে, সেহেতু একই রকমভাবে তারা দেনমোহর প্রথার বিলোপ চান। ইসলামী আইনে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য। প্রচলিত ও সামাজিক আইনের মারপ্যাঁচ ও সামাজিক চাপে এখন পুরুষ নির্যাতনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই দেনমোহর।
এডভোকেট
জজ কোর্ট, ঢাকা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
