এইমাত্র পাওয়া

প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড অযৌক্তিক

নিউজ ডেস্ক।।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন-২০২১’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ৩৬ বিশিষ্টজন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা আমলে না নিয়ে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ পাশ কাটিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন-২০২১ নামক একটি আইনের খসড়া তৈরি করে এর ওপর মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। শিক্ষানীতি ২০১০ ও জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১-এর নীতি এবং অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কেন নেওয়া হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। যেখানে করোনার কারণে গত শিক্ষাবছরে একটিও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি, এমনকি এ বছরও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা

নেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, সেখানে এ বোর্ড গঠনের প্রস্তাব কতটুকু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

বিশিষ্টজনরা আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সবার জন্য বিনামূল্যে বই প্রদানের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাইডবই ব্যবহারের প্রবণতা কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষা ও বইয়ের বোঝা কমানোর ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার প্রতিফলন আমরা লক্ষ্য করেছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখায়। যেখানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা রাখা হয়নি।

এটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ নাগরিক সমাজের একটি অন্যতম প্রত্যাশিত বিষয় ছিল। এমনকি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষাকে পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে ধরা হয়নি। এর পরিবর্তে বলা হয়েছে স্থানীয়ভাবে উপজেলা, পৌরসভা বা থানা পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের দাবি জানাই। তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে শুধু পরীক্ষানির্ভর, সনদসর্বস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ারও দাবি জানাচ্ছি।

বিশিষ্টজনরা আরও বরেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর করা, গাইডবই ও প্রাইভেট টিউশনকে বৈধতা দেওয়া এবং কোচিং বাণিজ্যকে উৎসাহিতের নানা অপচেষ্টা আমরা আগেও লক্ষ করেছি এবং প্রতিবাদ জানিয়েছি। প্রস্তাবিত প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঁধে বইয়ের বোঝা বাড়াবে। একই সঙ্গে করোনার মতো মহাবিপর্যয়ের পর কোচিং ও গাইডবইয়ের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে অভিভাবকদের। আমরা মন্ত্রণালয়কে এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ও কো-চেয়ার জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন কমিটি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, শিক্ষাবিদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নাট্যকার নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ব্র্যাক চেয়ারপার্সন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমএম আকাশ, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ রয়েছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.