কাগুজে প্রশিক্ষণের বিল ১৮ কোটি টাকা!

নিউজ ডেস্ক।।

বিদ্যুতের স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ও চীনের একটি যৌথ কোম্পানি। খরচ দেখানো হয় ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কয়েকটি ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান চীনের হেক্সিং ইলেকট্রিক্যালকে দেওয়া হয় সেই টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে, এক ব্যক্তিও সেই প্রশিক্ষণ নেননি। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণের কোনো কার্যক্রমই হয়নি সরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও হেক্সিং ইলেকট্রিক্যালের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানিতে (বিএসইসিও)।

কোম্পানিটির নিজস্ব নিরীক্ষায়ও (অডিট) এ দুর্নীতি ধরা পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কেনাকাটায়ও বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দেশে সংযোজিত স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের দাম আমদানি করা একই ধরনের মিটারের চেয়ে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে না গিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনাকাটা হচ্ছে। এভাবে কেনাকাটার কারণে শত শত কোটি টাকা লোপাট ও পাচার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া বিল-ভাউচার, স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। কর্মী নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র জানায়, বিএসইসিওর কোনো জনবলের প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রমাণ না পেলেও নিরীক্ষকরা দেখতে পান, ২০১৯ সালের মে মাসে খোলা এক এলসির মাধ্যমে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিল করা হয় পণ্য উৎপাদন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য। একই এলসির আওতায় আরও প্রায় সাত লাখ টাকার বিল করা হয়। ২০২০ সালের আগস্টে খোলা অন্য এক এলসির আওতায় পাঁচ কোটি ৫২ লাখ টাকার বিল করা হয়। ওই মাসেই বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে আরও একটি বিল করা হয়েছে দুই কোটি ৯৭ লাখ টাকার। এ খাতেও কারও প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রমাণ পায়নি অডিট কমিটি। ওই বছরেরই নভেম্বর ও ডিসেম্বরে প্রশিক্ষণের আরও একটি বিল ২৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা হেক্সিংকে দেওয়া হয়। কিন্তু একজন ব্যক্তিও প্রশিক্ষণ নেননি।

এ ছাড়া কারিগরি সহযোগিতার নামে ২০২০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এক কোটি ২৯ লাখ টাকা হেক্সিংকে দেওয়া হয়েছে। মিটার স্থাপনের পর তিন বছর মেয়াদি বিক্রয়োত্তর সেবার বিপরীতে হেক্সিংয়ের নামে সাত কোটি ২২ লাখ টাকার বিল করা হয়েছে ২০২০ সালের আগস্টে। একই বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে একই খাতে ৬২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা হেক্সিংকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সেবা দেবে বিএসইসিও। অডিট কমিটি বলছে, এভাবে বিল দেওয়া হয়েছে টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে।

খরচ কমানোর লক্ষ্যে আমদানির পরিবর্তে দেশে বিদ্যুতের স্মার্ট প্রিপেইড মিটার সংযোজনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে কয়েক বছর আগে আলাদা দুটি কোম্পানি করে সরকার। দুটিই চীনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে গঠন করা। এর একটি বিএসইসিও, অন্যটি হলো আরেক সরকারি প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) এবং চীনের স্যানজেন স্টার ইন্সট্রুমেন্টের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ পাওয়ার ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (বিপিইএমসি)। এটি করা হয় ২০১৯ সালে।

কিন্তু খরচ সাশ্রয়ের সেই কোম্পানিতে ব্যয় হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক চড়া দামে প্রিপেইড কেনাকাটার অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংস্থাটি গত ২৯ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিব বরাবর চিঠি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ অক্টোবর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) নির্দেশ দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে চার কোটির বেশি। তাদের মধ্যে প্রায় ৪২ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার। বাকি সাড়ে তিন কোটির বেশি গ্রাহকের বিল পোস্টপেইড মিটারের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

দেশের মিটারের দাম বেশি: নবগঠিত দুই কোম্পানি মিটার বিক্রির যে দাম প্রস্তাব করেছে, তা আমদানি করা সমমানের মিটারের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি চারটি বিতরণ অঞ্চলে (চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ) এক লাখ ৯৪ হাজার সিঙ্গেল ফেজ এবং ২৯ হাজার থ্রি ফেজের স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনার জন্য বিএসইসিও থেকে প্রস্তাব পায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, বিএসইসিও এরই মধ্যে তাদের মিটারের যে দর জানিয়েছে, তার দাম আমদানি করা মিটারের দামের চেয়ে বেশি। বিএসইসিও প্রিপেইড মিটারের দাম প্রস্তাব করেছে যথাক্রমে ৬৯.৬১ ও ৭৩.৬১ ডলার, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, পাঁচটি বিতরণ সংস্থায় ডিপিএম পদ্ধতিতে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার স্মার্ট প্রিপেইড মিটার কেনা হয়েছে। এর মধ্যে থ্রি ফেজ মিটার ছিল ৬৮ হাজার। বাকি পাঁচ লাখ ১৭ হাজার মিটার সিঙ্গেল ফেজের। মোট দাম পড়ে ৬৬৮ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিটি মিটারের দাম সাড়ে ১১ হাজার টাকা। কিন্তু দর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হলে এর চেয়ে অর্ধেক দামে কেনা যেত বলে জানিয়েছেন খাত-সংশ্নিষ্টরা। অর্থাৎ এখানে সরকারের প্রায় ৩৩৪ কোটি টাকা অপচয় বা লোপাট হয়েছে।

বিএসইসিও এবং বিপিইএমসির মিটারের কারিগরি মানদণ্ড ও মূল্য নির্ধারণে অতিরিক্ত সচিব শেখ ফয়েজুল আমীনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি করেছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। ওই কমিটি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে। এতে বলা হয়- পিডিবি, ডিপিডিসি, ডেসকো সম্প্রতি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যেসব সিঙ্গেল ফেইজ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার মডিউলসহ কিনেছে, সেগুলোর প্রতিটির দাম ৩০ থেকে ৩৮.৯০ মার্কিন ডলার। নেসকো একই ধরনের মিটার কেনে প্রতিটি ৪১.১২ ডলারে। ওজোপাডিকো মডিউলসহ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার কেনে ৫৪.১০ ডলারে। আর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) পাঁচ লাখ করে মোট ১০ লাখ প্রিপেইড মিটার কেনে প্রতিটি যথাক্রমে ২১.১১ ডলারে ও ২২.৮৮ ডলারে। তবে এগুলোতে প্রোভিশন থাকলেও মডিউল ছিল না। মডিউলসহ এগুলোর দাম পড়বে ৩০ থেকে ৩৫ ডলার। অর্থাৎ দরপ্রক্রিয়ায় কেনা মিটারের দাম পড়েছে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, যা দেশে উৎপাদিত প্রিপেইড মিটারের অর্ধেক।

বেশি দামের চাপ গ্রাহকের ওপর: প্রিপেইড মিটারের ভাড়া দিতে হয় গ্রাহককে। সিঙ্গেল ফেজের জন্য প্রতি মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজের জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আবার এই ভাড়া দেওয়া নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কত বছর ভাড়া নেওয়া হবে তার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যদিও বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, মূল্য পরিশোধ হলে আর ভাড়া নেওয়া হবে না।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, গড়ে সাত বছর লাগছে ভাড়া পরিশোধে। তবে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমির আলী জানিয়েছেন, যতদিন মিটার থাকবে, ততদিন ভাড়া দিতে হবে। কারণ মিটার নষ্ট হলে আবার পাল্টে দেওয়া হবে। তবে কোনো গ্রাহক চাইলে এককালীন দাম পরিশোধ করতে পারবেন। তখন মিটারের দায়ভার তার।

বেশি বিল করে অর্থ পাচার: গত জুনে বিএসইসিওর পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির শুরু থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পারফরম্যান্স ও আর্থিক নিরীক্ষা করতে একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি গত ১৮ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে নানা অনিয়ম তুলে ধরে বলা হয়, বিএসইসিওর পরিচালক (অর্থ) যেটি যেভাবে প্রস্তাব করেছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেটি সেভাবেই অনুমোদন করেছেন। পাশাপাশি কোম্পানির ৫১ শতাংশের মালিকানা ওজোপাডিকোর হলেও হেক্সিংয়ের পক্ষের লোকদের স্বার্থ দেখার জন্য কর্তৃপক্ষকে অধিকতর তৎপর দেখা গেছে।

বিএসইসিওর প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিক উদ্দিন গত ২ মে অবসরে যান। তার স্থলাভিষিক্ত হন রতন কুমার দেবনাথ। নতুন এমডি রতন গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়ে জানান, কোম্পানি এর আগে বিভিন্ন পণ্যের বিপরীতে বেশি বিল দেখিয়ে এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এলসির বিল পরিশোধের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ব্যবস্থা করেছে। ওই বিলগুলো পরিশোধ না করার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করেন।

চিঠিতে রতন কুমার দেবনাথ বলেন, প্রায় ৩০ কোটি ২৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯০ টাকা এলসির মাধ্যমে চীনা কোম্পানি হেক্সিংকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা অর্থ পাচারের শামিল বলে কোম্পানির অডিট কমিটি মনে করে। বিএসইসিওর ৫১ শতাংশের মালিক সরকারি প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকো। তাই এর মাধ্যমে কোনো অর্থ বিদেশে পাচার হলে ওজোপাডিকো তথা সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে।

অডিট প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে, বিএসইসিও ২০১৯ ও ২০২০ সালে একাধিক হিসাবে ৯৮ কোটি আট লাখ টাকার এলসি খোলে। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রিপেইড মিটার ও প্রিপেইড মিটারের যন্ত্রাংশ কেনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারদর এবং চুক্তির চেয়ে বেশি দর দেখিয়ে বিল দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সফটওয়্যার কেনা, স্থাপন ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকার এলসি খোলা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটি কোনো প্রশিক্ষণের প্রমাণ পায়নি। ফলে এই অর্থের একটা বড় অংশ পাচারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এমডিএম/এইচইএম সিস্টেম’ কেনার জন্য চুক্তি অনুসারে হেক্সিংকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি ব্যাংকে ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকার এলসি খোলা হয়। অর্থাৎ ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ পাচারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের জন্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিন, পরিচালক অর্থ আব্দুল মোতালেব এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ে ওয়েনজুকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিদেশে বসে বাংলাদেশে কাগজ সই!: হেক্সিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে চীনের নাগরিক ইয়ে ওয়েজুন বিএসইসিওর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এর পরও তার স্বাক্ষরে ২১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বিল ছাড় করার চিঠি দেওয়া হয় ব্যাংককে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১-এর মে পর্যন্ত ওই কর্মকর্তার স্বাক্ষরে অনেক ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, দেশে না থাকলেও ইয়ে ওয়েজুনের স্বাক্ষরে মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে দুই লাখ ২৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয় বিল-ভাউচার ছাড়া। একইভবে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ডিপিডিসির মিটার সরবরাহ কাজে এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা ছাড় করা হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। একই ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশে না থাকলেও সাত লাখ ২৯ হাজার টাকা একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

শুধু তাই নয়, ইয়ে ওয়েজুন দেশ ত্যাগের পর তার বিভিন্ন খরচ বাবদ দুই লাখ ১৬ হাজার টাকার চেক ইস্যু করা হয় ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর। এতে তৎকালীন এমডি, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক (অর্থ) স্বাক্ষর করেন। অথচ ওয়েজুন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন তার আগের মাসেই। এ ছাড়া দেশে না থাকলেও ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ‘তিনি’ চেকে সই করেন। একইভাবে ওই বছরে ২১ অক্টোবর দুই লাখ ১৭ হাজার টাকার আরেকটি চেক ইস্যু করা হয় ইয়ে ওয়েজুনের নামে। যে টাকা জমা হয় ওই বছরের ২৫ অক্টোবর।

আরও অনিয়ম: বিএসইসিওর নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিভিন্ন কেনাকাটার বিল ও কর্মীদের বেতন-ভাতা থেকে কেটে রাখা প্রায় ২০ লাখ টাকার ট্যাক্স-ভ্যাট কোম্পানির হিসাবে জমা হয়নি। এ ছাড়া দেশে মিটার সংযোজন বা তৈরির কথা থাকলেও বিওসিও কয়েক দফায় প্রায় ৭০ হাজার প্রিপেইড মিটার আমদানি করে, যা কোম্পানির উদ্দেশ্যের পরিপন্থি। পাশাপাশি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে অডিট কমিটি।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে অফিস সামগ্রী কেনা বাবদ দুই কোটি ৯০ লাখ টাকার বিলের অধিকাংশ কপিতে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছিল না। বিল-ভাউচার ছাড়া ২৩ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। ফ্যাক্টরি ও বাড়ি ভাড়ায় অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাসার কাজের লোকের বেতনও অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসিওর মালিকানায় থাকা ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন কুমার দেবনাথ এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

ওজোপাডিকোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সেলিম আবেদ   বলেন, এটি একটি যৌথ কোম্পানি। আমরা একটি কমিটি করেছি। তারা নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেটি যাচাই করে আগামী বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হবে। এরপর একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার্বিক নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কোম্পানিটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিনের সঙ্গে একাধিক মাধ্যমে চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।সুত্র সমকাল


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.