এইমাত্র পাওয়া

সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে

নিউজ ডেস্ক।।

সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মনে রাখবেন আমরা বিজয়ী জাতি। বিশ্বদরবারে আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচব। গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিটকে পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এদিন চট্টগ্রামের হালিশহর প্যারেড আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ৪, ১২ ও ২০ ফিল্ড, ৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৫ ও ৭ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ১ ও ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ এবং এনসিও একাডেমির জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান এবং মুজিব রেজিমেন্ট ও রওশন আরা রেজিমেন্টকে নতুন পতাকা প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেনাপ্রধান

জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ইউনিটপ্রধানদের হাতে পতাকা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীসহ সেনাবাহিনী ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলাসহ আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপারেশন কোভিড শিল্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে এনেছেন সম্মান ও মর্যাদা। যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মানবিকতা মুগ্ধ করেছে সেসব দেশের সাধারণ জনগণকে।

পতাকা পাওয়া ইউনিটগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শক্তি- এ কথাটি বলে গেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আবহমানকাল ধরে যুদ্ধের ময়দানে জাতীয় পতাকা মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। আজ যে পতাকা আপনারা পেয়েছেন, তার মর্যাদা সমুন্নত রাখার দায়িত্বও আপনাদের। এ সময় সম্প্রতি রেজিমেন্ট অব আর্টিলারিতে ৩টি আর্টিলারি ব্রিগেড, ১টি এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড, ৫টি ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫টি এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ১টি ডিভিশন লোকেটিং ব্যাটারি, ১টি মর্টার রেজিমেন্ট, ১টি এমএলআরএস রেজিমেন্ট এবং ১টি স্বতন্ত্র এমএলআরএস ব্যাটারি সংযোজন করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আকাশ প্রতিরক্ষায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এয়ার ডিফেন্স শাখার জন্য ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইলের (এফএম-৯০ স্যাম সিস্টেম) প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে একটি কমব্যাট সিমুলেটর ২০১৯ সালে সংযোজন, একই বছর এক ব্যাটারি অত্যাধুনিক ওয়েরলিকন রাডার কন্ট্রোল গান সিস্টেম ও স্কাই গার্ড-৩ রাডার সংযোজন এবং আরও ১ ব্যাটারি ওয়েরলিকন গান সিস্টেম ক্রয়ের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দুই ভাই সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ছোটভাই শেখ রাসেলেরও শখ ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। আমার চাচা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিগেডিয়ার জামিলসহ তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়। আমরা দুই বোন বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম।’

এ সময় করোনার কারণে সশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন সরকারপ্রধান। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে উল্লেখ করে সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.