নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে ১৮৭৩ সালের ২৬শে অক্টোবর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, বাঙালিদের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
আজ ১৪৮তম জন্মদিন তার খোদ জন্ম স্থানেই দায়সারাভাবে পালন করা হয়েছে। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝাঁকঝমক ভাবে জন্মদিন পালিত হলেও তার জন্মস্থান রাজাপুরে চোখে পড়ার মত ছিলনা কোনো আয়োজন। দায়সারাভাবেই সাতুরিয়া শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক রিচার্স ইনিস্টিউট ও সাতুরিয়া ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেননা শের-ই-বাংলার বংশের কোন লোক অথবা কোন নিকটাত্মীয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শের-ই-বাংলার জন্মস্থান সাতুরিয়ার একাধিক ব্যক্তি বলেন, শের-ই-বাংলা আমাদের গর্ব। তার জন্ম আমাদের এলাকায় তাই আমরা ধন্য। সে আমাদের উপজেলাকে আমাদের গ্রামকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছে। আজ সে জীবিত নেই কিন্তু তার নানার বংশের ও দাদার বংশের লোক এখনো জীবিত আছে। আজকে এমন একটা দিনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো সেখানে তার আত্মীয় স্বজনরা কেউ নাই। তারা যদি শের-ই-বাংলাকে স্মরণ করতে এই আয়োজন করতো তাহলে তার রক্তের কাউকে এখানে দাওয়াত দিত। যেহেতু তাদের কাউকে এখানে দাওয়াত দেয়া হয়নি সেহেতু নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে এবং নিজেদের স্বার্থের জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের সাতুরিয়া ইঞ্জিনয়ার একেএম রেজাউল করীম কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সিকদার জানান, অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মাইনুল হায়দার নিপু, মহিদুল ইসলাম ও আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। তারাই শেরে বাংলার আত্মীয়। এছাড়াও তার নাতি রাজু সাহেবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো সে আসেনি। তিনি আরো জানান, রাস্ট্রীয়ভাবে যেহেতু পালন করা হয় না। আমরা যেমন পারছি করেছি, আর কোথাও তো কেউ করেনি।
এ ব্যাপারে শের-ই-বাংলার নানার বংশধর তানভীর রহমান বলেন, আমরা কর্মের তাগিদে সব সময় দেশে থাকিনা, তবে সুযোগ পেলেই এলাকায় যাই এলাকাবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমার বাবা ওবায়েদ মিয়া শের-ই-বাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে অনেক অবদান রেখেছেন যা এখনো চলমান।
আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার একটি মহল শের-ই-বাংলার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন কর্ম করে থাকে। তারা আমাদের কাউকে এই বিষয়ে কিছুই অবগত করেনা। আজকের অনুষ্ঠান সম্পর্কেও কিছুই আমাদের জানায়নি। এগুলো আমাদের দুঃখ দেয়। এতে আমরা আস্তে আস্তে মানুষের পাশের থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোক্তার হোসেন বলেন, শের-ই-বাংলার জন্মদিন উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনেই পালন করা উচিত কিন্তু কোনো বরাদ্দ না থাকায় উপজেলা প্রশাসন এর আগে কখনো পালন করেনি তাই এবারেও করা হয়নি। তবে যারা করেছে তাদের আরো বড় আয়োজন করা উচিত ছিলো।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
