এইমাত্র পাওয়া

কাঠমিস্ত্রির কাজ করেও রাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম

অনলাইন ডেস্ক।।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় একটি ইউনিটে ৮০ দশমিক ৩০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন মোস্তাকিম আলী। কোনো ধরনের কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়া ছাড়াই পরীক্ষার ১৫ দিন আগে কাঠমিস্ত্রীর কাজে বিরতি দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন এই শিক্ষার্থী। গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার তিনটি গ্রুপে অংশ নেয় ৩৯ হাজার ৮৯৫ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। যেখানে মোট উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ।
মোস্তাকিম রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইড় মিশনপাড়া এলাকার শামায়ুন আলীর ছেলে। বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী। মা গৃহিণী। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই অভাবের সংসারের হাল ধরতে বাবার সাথে কাজ শুরু করতে হয় মোস্তাকিমকে। দিনে কাঠমিস্ত্রীর কাজ আর রাতে পড়াশোনা করেই সাফল্যের সাক্ষর রেখেছেন তিনি।
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় মোস্তাকিম। মেজোভাই আজিজুল হককে পড়াশোনা করাতে সক্ষম হয়নি পরিবার। ফলে বাল্যকাল থেকেই বাবার সাথে কাঠের কাজ করেন তার এই ভাই। ছোট বোন ফাহিমা খাতুন মুণ্ডুমালা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবু অনেক কষ্টে দুই ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন তাদের বাবা। ২০১৭ সালে নিজ উপজেলার মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় স্কুল থেকে জিপিএ ৪.৫৫ নিয়ে মাধ্যমিক এবং ২০১৯ সালে তানোর ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৪.০৩ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন এই শিক্ষার্থী। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদিনা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুপ্ত আকাঙ্খা ছেড়ে দেননি মোস্তাকিম। ফলে এইচএসসিতে পুনরায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেন। এবার জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে পাশ করে বসেন রাবি ভর্তি পরিক্ষায়। অর্জন করে নেন প্রথম স্থান। মোস্তাকিম আলী বলেন, কোনো ভর্তি কোচিং বা প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ার সুযোগ হয়নি। তবে অনলাইনে কিছু ভর্তি প্রস্তুতির লেকচার পেয়েছি, যা ভর্তি প্রস্তুতিতে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। এক্ষেত্রে কলেজের অনেক শিক্ষকগণও সহায়তা করেছেন আমাকে।
ছেলের সফলতায় উচ্ছ্বসিত বাবা শামায়ুন আলী বলেন, পড়ালেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই মোস্তাকিমের আগ্রহ ছিল। কষ্ট হলেও তার পড়ালেখা বন্ধ করেনি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে নিজেকে এগিয়ে নিতে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাও তার প্রতি বেশ আন্তরিক ছিলেন। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনায় লেখাপড়া করায় এমন সাফল্য পেয়েছে মোস্তাকিম। তার সাফল্যে আমি গর্বিত। তাই সবার কাছে দোয়া চাই।ভবিষ্যতে মোস্তাকিম নিজেকে করপোরেট চাকরির উপযোগী করে গড়ে তুলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.