এইমাত্র পাওয়া

১৪ শিক্ষার্থীর চুল কর্তন সাক্ষ্য দিতে গড়িমসি অভিযুক্ত শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে (রবি) ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা শিক্ষক তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন অসুস্থতার অজুহাত দেখাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হিমেলের কথায়- ‘স্বশরীরে এসে সাক্ষী দেওয়ার কথা বললে তিনি প্রথম দফায় ১৪ দিনের সময় চান। আমরা তাকে তিন দিনের সময় দিয়েছিলাম। তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আবারও অসুস্থতা জনিত কারণে সময় চান। আমরা তার অসুস্থতার মেডিক্যাল সার্টিফিকেট চাইলে তিনি একজন নিউরো সার্জনের কাছ থেকে একটি সুপারিশ নিয়ে দেখিয়েছেন যে, তিনি হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত। যেটি দেখে বোঝা যায় রোগের সঙ্গে ডাক্তারের কোনো সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া তিনি যে হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত, তার কোনো টেস্ট রিপোর্ট দেননি।’

তদন্ত কমিটির প্রধান এ-ও জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার তদন্ত কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল;

কিন্তু কমিটির এক সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে তা হয়নি। আজ মঙ্গলবার বিকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকায় এবং অভিযুক্ত উপস্থিত না হওয়ায় তার সাক্ষ্য ছাড়াই প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে।

রবির রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে। তদন্ত কমিটি আরও সাত দিনের সময় চেয়েছে।

আন্দোলনরত ছাত্রদের মুখপাত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়নের প্রথম বর্ষের ছাত্র শামীম বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এবং ভিসি স্যারের সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলন থেকে সরে এসেছিলাম; কিন্তু যদি দেখি আমাদের দাবি পূরণ না হয়, তা হলে দুর্গাপূজার পর ফের কঠোর আন্দোলনে নামব।’

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে (মহিলা ডিগ্রি কলেজ) ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। এ ঘটনায় বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নাজমুল হাসান তুহিন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযুক্তের বিচার ও চাকরি থেকে স্থায়ী অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে প্রশাসনিক তিনটি পদ থেকে ইস্তফা দেন অভিযুক্ত।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.