অনলাইন ডেস্ক।।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গত তিনদিনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেননি প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রথম দিনে ১০ হাজার ৭৪১ জন, দ্বিতীয় দিনে ৭ হাজার ১৪০ জন, বুধবার তৃতীয় দিনে ৮ হাজার ৩৭৭ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হননি। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার বেশি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের থেকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ৪ অক্টোবর শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। প্রথমদিন অনুষ্ঠিত ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) বিভাগের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ১০ হাজার ৭৪১ শিক্ষার্থী। যা এই ইউনিটের ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর ২৪.৩০ শতাংশ। সি ইউনিটের মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ৪৪ হাজার ১৮৮ জন। এরমধ্যে ৩৩ হাজার ৪৪৭ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। এ হিসেবে উপস্থিতির হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। বি ইউনিটের মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ৩৯ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে উপস্থিত হন ৮ হাজার ৩৭৭ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে এ ইউনিট (কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ) অনুষদের পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৭ হাজার ১৪০ জন। যা এই ইউনিটে ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থীর ১৬.৩৯ শতাংশ। মোট ৪৩ হাজার ৫৫৮ শিক্ষার্থীর বিপরীতে উপস্থিত হন ৩৬ হাজার ৪১৮ জন। উপস্থিতির হার ৮৩.৬১ শতাংশ।
এই হিসাবে তিনদিনে অনুপস্থিত মোট ২৬ হাজার ২৫৮ জন। যা এই তিন ইউনিটে ভর্তিচ্ছু মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২০ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকা এবং রাজশাহীতে হোটেল ও মেসে পর্যাপ্ত সিট পাওয়া যায়নি বলে এটিকে অনুপস্থিতির কারণ দেখাচ্ছেন অনেকে। নারায়নগঞ্জ থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক মানিক মিয়া বলেন, রাজশাহীতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলাম। মেয়েকে রাখতে পারলেও সে বাড়িতে মহিলা থাকায় তার জায়গা হয়নি। তাই তিনি রাস্তায় রাস্তায় এবং নদীর ধারে ঘুরে বেড়িয়ে রাতের সময় অতিবাহিত করে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে ঠাই নিয়েছেন। অনেকে ভোগান্তির কারণে নাও আসতে পারেন। তবে তার প্রত্যাশা মেয়ে যদি ভর্তির সুযোগ পায় তাহলেই তার পরিশ্রম স্বার্থক হবে।
তবে এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কো অর্ডিনেটর ও কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, মূলত তিনটি কারণে অনুপস্থিত হতে পারেন। একটি মেডিকেলের পরীক্ষা, দ্বিতীয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও তৃতীয়টি হলো করোনার কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাবর্ষ কিছুটা এগিয়ে গেছে। যেসব শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্য দেশের বাইরে যাওয়া তাদের অনেকে একটি ডিগ্রির জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিচ্ছেন এমনটি হতে পারে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী আছেন যাদের যথাযথ প্রস্তুতি ছিলো না।
আবাসন সংকটের কারণে কেউ পরীক্ষা দিতে আসেনি এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন না তিনি। তিনি বলেন, যাদের পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা ছিলো তারা যেভাবে হোক পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
