সমাজের সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের আলোকিত করছেন রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকার প্রফেসরপাড়ার বাসিন্দা আবু জাফর। নিজ অর্থে রাজশাহী মহানগরীর ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়ায় প্রতিষ্ঠা করেছেন আলোর পথে বিদ্যানিকেতন। ২০০১ সালে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন আবু জাফর। বাবা মহসীন-উল বারী ছিলেন বিদ্যানুরাগী। তিনিও সমাজকে নিরক্ষরমুক্ত করতে রেখেছেন অনন্য অবদান। বাবার অনুরোধেই তার স্বপ্ন পূরণ করতে আবু জাফর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর সমাজের পিছিয়ে পড়া নিম্নআয়ের মানুষের সন্তানদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে তাদের অক্ষরদান কার্যক্রম শুরু করেন।
আবু জাফর ছোট বনগ্রাম, বড় বনগ্রাম, পার্শ্ববর্তী নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল, পাবনাপাড়া, শালবাগান পার হাউজের মোড়সহ কয়েকটি এলাকার বস্তির শিশুদের ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে এ কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হতো। সবাইকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে তিনি ২০১৫ সালে ২০ বছরের জন্য চার কাঠা জমি ৩০ হাজার টাকায় লিজ নেন। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে নিজের জমানো একলাখ টাকা ব্যয় করে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ তৈরি করেন। শিশুদের জন্য কাঠের বেঞ্চের ব্যবস্থা করেন। পাঁচজন তরুণ শিক্ষককে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলোর পথে বিদ্যানিকেতন।
আলোর পথে বিদ্যানিকেতনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। সকাল সাতটা থেকে পাঠদান শুরু হয়। চলে দুপুর একটা পর্যন্ত। এর আগে সকাল সোয়া ছয়টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেন আবু জাফর। এরপর শুরু করেন পরিচ্ছন্নতার কাজ। নিজে মেঝে ঝাড়ু দেন। করেন বেঞ্চ পরিষ্কার। সঙ্গে রয়েছে টয়লেট পরিষ্কারও। এরপর আসতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় পাঠদান। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে সাড়ে তিনশ ক্ষুদে শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। এছাড়া ৫০ জন মাকেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছেন আবু জাফর।
আবু জাফরের অলোকার মোড়ে তার ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসা রয়েছে। ছোট এ দোকানটি থেকে তার খুব স্বল্প পরিমাণ লাভ হয়। তিনি বলেন, আমি দোকান থেকে মাসে যে আয় করি, তার শতকরা ৫০-৬০ থেকে ৬০ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পেছনে ব্যয় করি। বর্তমানে স্কুলে পাঁচজন শিক্ষক আছেন। কিন্তু তাদের পারিশ্রমিক দিতে পারি না। সামান্য কিছু সম্মানী দেয়া হয় মাত্র। আবু জাফর বলেন, ইতোমধ্যে আমার স্কুল থেকে প্রায় ছয়শ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করেছে। তারা এখন ব্র্যাকের স্কুলে পড়ছে। অনেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে। আমি চাই, সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক। পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করুক।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
