এইমাত্র পাওয়া

ঊর্ধ্বমুখী পণ্যবাজারে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

এক মাস ধরে বাজারে বেড়েই চলেছে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম। মধ্যবিত্তের আমিষ ও প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান খামারে উৎপাদিত মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আর শীতের সবজি বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এমন ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজারে নাভিশ^াস উঠেছে মধ্যবিত্তের।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি (গোল) বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ইন্ডিয়ান টমেটো ১০০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা। চাল কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও কাঁকরোল ৬০ টাকা।

মাছ, গোশত, ডিম ও মসলার দাম অন্যান্য সময়ের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম এ সপ্তাহেও বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৫০-১৫৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা এ দিন পাকিস্তানি কক বিক্রি করেছেন কেজি ২৮০-৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৭০-২৮০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ২২০-২৩০ টাকা।

মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে বাসাবো বাজারের ব্যবসায়ী রফিক হোসেন বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা বাড়লেও সে অনুযায়ী সরবরাহ নেই। করোনা শেষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার প্রবণতা বাড়ছে। তাই মুরগির চাহিদা খুব বেশি। কিন্তু সে অনুযায়ী নেই উৎপাদন। করোনায় অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া খামারে মুরগির উৎপাদন কমেছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে। ফলে যে মুরগি মাসখানেক আগে আমরা ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি এখন সেই মুরগি ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ দিকে মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সীমিত আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

রাজধানীর মাদারটেক এলাকার সুমন বলেন, গরু বা খাসির গোশত খাওয়ার সামর্থ্য নেই। এজন্য মুরগির গোশত খেতাম। কিন্তু এখন দাম এত বাড়ছে যে, এখন মুরগিও কিনতে পারতেছি না।

এ ছাড়াও নিত্যপণ্য হিসেবে বাড়ছে ডিমের দামও। প্রতি হালিতে ডিমের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকারও বেশি। এ সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে প্রতি ডজন ১০ টাকার মতো। ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০৫-১১০ টাকার মধ্যে। আর মুদি দোকানে গত সপ্তাহে এক পিস ডিম বিক্রি হয় ৯ টাকা, এখন তা বেড়ে ১০ টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস ডিম ১১ টাকাও বিক্রি করছেন।

এ ছাড়া এক মাসে দেশি হলুদের দাম বেড়েছে ৬০ টাকার মতো। এক মাসে বড়দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকার মতো। গত এক মাসে চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকার মতো। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৬ টাকা। পামঅয়েলের (সুপার) দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকার মতো। গত এক মাসে প্যাকেট ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৮ টাকা। একইভাবে প্যাকেট আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ টাকার মতো।

সরকারের হিসাবে গত এক বছরে পামঅয়েল সুপারের দাম বেড়েছে ৬৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। দেশী হলুদের দাম বেড়েছে ৫৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।
এ দিকে এখনো ভোক্তাদের মোটা চাল কিনতে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। একইভাবে চিকন চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা পর্যন্ত। বাজারে আগের দামে কেজিপ্রতি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এ ছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। বাজারে গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা আটা। প্রতি কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায়।

গত সপ্তাহের চেয়ে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। গতকাল লাল ডিমের ডজন ১২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। দেশী মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা।

মাছ বাজারে রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। মৃগেল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা।

আগের মতো বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বড় (এক কেজির ওপরে) ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা। মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। আর ছোটগুলো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির গোশত। প্রতি কেজি গরুর গোশত ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসির গোশত ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.