নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বর্তমানে যে হজ ও ওমরাহ আইন করা হয়েছে তা একটি কালো আইন। এটি হজ এজেন্সি মালিকদের জন্য একটি মরণফাঁদ। এ আইন রহিত করতে না পারলে কোনো এজেন্সি টিকে থাকতে পারবে না। এ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় হজ এজেন্সি মালিকরা এ কথা বলেন। ‘হাব ওলামা মাশায়েখ ও সাধারণ সদস্যবৃন্দে’র ব্যানারে আয়োজিত সভায় এজেন্সি মালিক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর মাওলানা কফিল উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন হাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান। আরো আলোচনা করেন, হাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল কবির খান জামান, হাবের সাবেক সহসভাপতি খাজা মঈনুদ্দিন আহমদ জালালাবাদী, আটাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সাবেক মহাসচিব আসলাম খান, হাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন মিন্টু, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ড. কাজী কামাল আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, ডিএম দেলোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাহমুদ, সাবেক আটাব নেতা নুরুল আলম শাহীন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান বলেন, নতুন হজ আইনে এজন্সি মালিকদের ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এটি বহাল থাকলে আমরা ব্যবসা করতে পারব কি না জানি না। কিন্তু হাবের বর্তমান নেতৃত্ব সদস্যদের বিকৃত তথ্য দিচ্ছেন। তারা তাদের সমর্থন না করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, হাবে মাস্তানি-পেশিশক্তির প্রদর্শনী শেষ। কেউ যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে এখানে মাস্তানি করতে পারবে না। তাহলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, আগামীতে আমরা দায়িত্ব পেলে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বোঝানোর চেষ্টা করব। আশা করি তিনি বিষয়টি বুঝবেন। আর তা নাহলে আমরা সব লাইসেন্স জমা দিয়ে দেবো।
তাজুল ইসলাম বলেন, হজ ও ওমরাহ আইন শুধুমাত্র বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের জন্য করা হয়েছে। তাহলে সরকারিভাবে কেউ হজে গেলে সেখানে কোনো অনিয়ম হলে তার দায়ভার কে নেবে? তাদের শাস্তির কোনো বিধান নেই কেন? তিনি বলেন, আইনে সৌদি আরবে কেউ অপরাধ করলে তাকে বাংলাদেশের আইনে বিচার করা হবে বলা হয়েছে। এটা হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, সরকারকে বিপদে ফেলতে এ আইন করা হয়েছে। এ আইনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে। আমরা এ আইন বাস্তবায়ন করতে দেবো না।
আব্দুল কবির খান জামান বলেন, বর্তমানে যে হজ ও ওমরাহ আইন করা হয়েছে তা একটি কালো আইন। এটি হজ এজেন্সি মালিকদের জন্য একটি মরণফাঁদ। এ আইন রহিত করতে না পারলে কোনো এজেন্সি টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, হজ এজেন্সি মালিকদের বিরুদ্ধে আগেও অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু এ আইন হলো সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র। এ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিতে হবে।
আব্দুস সালাম আরেফ বলেন, সংবিধানে বলা হয়েছে আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু হজ ও ওমরাহ আইনে শুধুমাত্র বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এখানে সরকারি হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে সে বিষয়ে কোনো কথা নেই। এ ধরনের দ্বৈতনীতি চলতে পারে না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
