এইমাত্র পাওয়া

ফুলবাড়ীতে শিক্ষা অফিসের গাফিলতিতে স্লিপের ৪০ লাখ টাকা ফেরত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শিক্ষা অফিসের গাফিলতির কারণে ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য স্লিপের ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেরত যাওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।

এদিকে শিক্ষকদের তোপের মুখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর স্লিপের প্রথম কিস্তির টাকা বিদ্যালয়ের যৌথ হিসাব নম্বরে ছাড় করলেও দ্বিতীয় কিস্তির ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ণের বরাদ্দ ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেতর যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ণ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান শিক্ষকরা।

জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও উন্নয়ণমূলক কাজের জন্য প্রতি বছর সরকারিভাবে স্লিপের বরাদ্দ পান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য বছরগুলোতে স্লিপের বরাদ্দের টাকা সঠিক সময়ে পান। চলতি অর্থ বছরের স্লিপের টাকা ৩০ জুনের মধ্যে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের নিজস্ব একাউন্টে পাওয়ার কথা। কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বের অবহেলার কারণে বরাদ্দের টাকা বিদ্যালয়ের না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। এজন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারী কাম হিসার রক্ষণকেই দায়ী করেছেন একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

এদিকে সরকারিভাবে চলতি মাসের ১২ সেপ্টম্বর দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই সারাদেশের মতো ফুলবাড়ী উপজেলায় ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের স্লিপের বরাদ্দ আসে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুকূলে। স্কুল খোলার আগেই শিক্ষা কর্মকর্তার নিদের্শ পাওয়ায় ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ তাদের নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়গুলো ধোয়া-মোছাসহ পরিস্কার-পরিছন্নতা, সমগ্র প্রতিষ্ঠান জীবানু নাশক স্প্রে করে ১২ সেপ্টম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের উপযোগী করে তোলেন। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে স্লিপ বরাদ্দের সমুদয় টাকা বিদ্যালয়ের অনুকূলে দেওয়ার কথা থাকলেও ১৪৯ টি স্কুলের স্লিপের ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেরত যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্লিপের টাকা ফেরত যাওয়ার কারণে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এরশাদুল হক ও একই অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসার রক্ষণ মো.শহিদুল ইসলামকে ২ সেপ্টেম্বর শোকজ করেছে।

মনিরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মল্লিক হোসেনসহ অনেকেই জানান, যথা নিয়মের স্লিপের বরাদ্দকৃত অর্থেও কাজ শেষ করে বিল ভাউসারাদি অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্লিপের প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছি। অফিসের ক্রটির কারণে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাইনি।

স্লিপের ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তাফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মিটিং করে আপনাকে জানানো হবে।

উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষণ মো.শহিদুল ইসলাম নিজের অপরাধ শিকার করে জানান, আমার ভুলের কারণেই স্লিপের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ফেরত যাওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে শোকজ করেছে। আমি শোকজের জব্বাব ৫ সেপ্টেম্বর দিয়েছি।

ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম জানান, প্রথম কিস্তির টাকা ১৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে। স্লিপের ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেরত যাওয়ায় দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কবে পাবেন সেটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এরশাদুল হককে একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো.শহিদুল ইসলাম জানান, স্লিপ বরাদ্দের ফুলবাড়ী উপজেলার ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ বিভাগে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। তবে কবে ফেরত যাওয়া স্লিপের টাকা কবে নাগাদ আসতে পারে এমন প্রশ্ন করলে ডিপিইও জানান এটা একান্ত অধিদপ্তরের ব্যাপার।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো.মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অবগত আছি। টাকা ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.