শিক্ষায় করোনার আঘাত অনেকেই ক্লাসে ফেরেনি

নিউজ ডেস্ক।।

রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা শাহানা ইয়াছমিন শানু। স্থানীয় আলহাজ আব্বাস উদ্দিন হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সে। তার বাবা নুরুল ফকির স্থানীয় ঝুটপট্টিতে একটি দোকানে অল্প বেতনে কাজ করতেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছরের নভেম্বরে তিনি মারা যান। এরপর শানুর মা নার্গিস বেগম বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। ছোট দুই ভাইবোনের দেখাশোনা করার দায়িত্ব এখন এসে পড়ে শানুর ঘাড়ে। গত রোববার থেকে বিদ্যালয় খুলে গেলেও শানু আর বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। ‘কেন যাচ্ছ না স্কুলে?’- প্রশ্ন করা হলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শানুর উত্তর, ‘ভাতই পাই না! স্কুলে যামু কেমনে?’

করোনাকালে দীর্ঘ ছুটির পর ফের আনুষ্ঠানিক পাঠদান শুরু হলেও শানুর মতো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে ফেরেনি। সংশ্নিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বলছেন, করোনার কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ায় শহরাঞ্চলের অনেক পরিবার গ্রামে চলে গেছে। সামর্থ্য না থাকায় সেখানেও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারেনি।

এ ছাড়া করোনাকালে মফস্বল এলাকার বিপুল সংখ্যক কন্যাশিশুর বিয়ে হয়ে যাওয়ার তথ্য মিলেছে। তাদের বেশিরভাগই আর বিদ্যালয়ে ফিরবে না। অভাবের কারণে শ্রমঘন কাজকর্মেও জড়িয়ে পড়েছে বহু শিশু।

বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার আরেকটি বড় সূচক হলো, সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণ করা পাঠ্যপুস্তক। গত বছরের চেয়ে এ বছর বইয়ের চাহিদা কম। সাধারণত শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেলেই বইয়ের চাহিদা কমে যায়। প্রতি বছর সরকারি-বেসরকারি শিক্ষার্থীর সংখ্যা হিসাব করেই প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যের বই ছাপানো হয়। চলতি ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সরকার ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ পাঠ্যবই ছেপে বিতরণ করেছে। তবে আগামী ২০২২ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ কোটি ১৬ লাখ ১৯ হাজার ৩১৩ কপি বই ছাপার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সেই হিসাবে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই কমছে ৭৭ লাখের বেশি। সূত্র জানায়, সাধারণত প্রতি বছরই শিক্ষার্থী বাড়ে। শিক্ষার্থী বাড়ার কারণে বছরে গড়ে প্রায় আড়াই শতাংশ পাঠ্যবই বাড়ে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এবার শিক্ষার্থী কমেছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের দিকে সরকারকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

রাজধানী ঢাকার একাধিক স্কুল-কলেজের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা সমকালের সঙ্গে আলাপকালে জানান, বিদ্যালয় খোলার মাত্র কয়েকদিন হলেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আলামত তারা দেখতে পাচ্ছেন। যেমন, অনেক শিক্ষার্থীর অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে না আসা; শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না রাখা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ না করা।

গত এক দশকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী এনরোলমেন্ট বাড়ছিল; কমছিল ঝরে পড়ার হার। বিনামূল্যে এই দুই স্তরের সব শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবই দেওয়া, উপবৃত্তি দেওয়া, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিসহ নানা উদ্যোগের কারণে দিন দিন ঝরে পড়ার সংখ্যা কমে আসছিল। মহামারি করোনা এসে সব উল্টে দিয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী  বলেন, ঠিক কী পরিমাণ শিশু পড়ালেখার বাইরে চলে যাচ্ছে তা হয়তো এখনই নিরুপণ করা সম্ভব হবে না, তবে সরকারকে নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে। ঝরে পড়া, অপুষ্টি, বাল্যবিয়ে ও শ্রমঘন কাজে শিশুর জড়িয়ে যাওয়া একটি অপরটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে গেলে শিক্ষায় একটি বড় ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে। শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ দরকার।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম  বলেন, ঝরে পড়ার একটি স্বীকৃত সংজ্ঞা আছে। কমপক্ষে এক বছরের বেশি সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে না হলে কাউকে ঝরে পড়া হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

তার দাবি, দেশের ৬৬ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের নিবিড় যোগাযোগ আছে। তাদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা কম। বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, তাদের হিসাবে সারাদেশে ৬৪ হাজার কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ৪০ হাজারই করোনার জাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়েছেন তাদের কয়েক হাজার শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের কোনো যোগাযোগ নেই। শ্রমসাধ্য কাজে জড়িয়ে পড়েছে তাদের একাংশ।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, রোববার থেকে স্কুল খুলে দেওয়ার পর ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে। তবে অ্যাসাইনমেন্ট জমা না দেওয়া ও ফরম পূরণ না করার বাকি শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরা নিয়ে সন্দেহ আছে।

মনীপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন বলেন, বহু শিক্ষার্থীর পরিবার গ্রামে চলে গেছে। তারা এখনও ফিরে আসেনি। দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক ঠিকমতো টিউশন ফিও পরিশোধ করতে পারছেন না। আমরা তাদের সাধ্যমতো ছাড় দিচ্ছি।

খ্যাতনামা বিদ্যাপীঠ গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ ভুঁইয়া বলেন, নামিদামি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেভাবে ঝরে পড়ে না। গ্রামগঞ্জের চিত্র তলিয়ে দেখতে হবে।

বিভিন্ন জরিপের তথ্য: গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত এডুকেশন ওয়াচের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে ঝরে পড়ার ব্যাপারে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসে। এতে বলা হয়, প্রাথমিকের ৩৮ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যেতে পারে। ২০ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়ার হার বাড়বে এবং ৮ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন, শিক্ষার্থীরা শিশুশ্রমে নিযুক্ত হতে পারে। মাধ্যমিকের ৪১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতে পারে। ২৯ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়ার হার বাড়বে। ৪০ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, শিক্ষার্থীর অনিয়মিত উপস্থিতির হার বাড়বে এবং ২৫ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়ার হার বাড়বে। ৪৭ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনে করেন, শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতের হার বাড়বে, ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়া বাড়বে এবং ২০ শতাংশ মনে করেন, অনেকেই শিশুশ্রমে যুক্ত হতে পারে। ৬৪ শতাংশ এনজিও কর্মকর্তা মনে করেন, শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির হার ও ঝরে পড়া বাড়বে।

গত মার্চে প্রকাশিত মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা যায়, গত বছর এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাত মাসে দেশের ২১ জেলার ৮৪ উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৮৬টি বাল্যবিয়ে হয়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার ৫০ দশমিক ৬ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৬-১৭ বছর বয়সে। ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৩-১৫ বছর বয়সে। আর ১ দশমিক ৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১০-১২ বছর বয়সে। জরিপে ৩০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, দারিদ্র্য এবং কঠিন জীবন ধারণের কারণে তারা মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।

সরকারের পদক্ষেপ কী- জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন  বলেন, প্রতিদিন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে কেন তারা প্রতিষ্ঠানে আসছে না।

রাজধানীর বাইরের চিত্র: আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ৫৪৪ দিন পর স্কুলগুলো খুলতেই উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। উলিপুর, রৌমারী ও সদর উপজেলার মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের মাত্র ১২টি স্কুলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ৪০২ জন ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। ঝরে গেছে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উলিপুর মহিলা কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্র ভয়াবহ। এখানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২৭ জন। এর মধ্যে করোনার জন্য বন্ধ থাকার সময় ১৯৫ জন ছাত্রীর বাল বিয়ে হয়েছে। ঝরে পড়েছে ৫১ জন। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ষষ্ঠ শ্রেণির ৯২ জন ছাত্রীর মধ্যে ৩৫ জনের বিয়ে হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম জানান, জেলায় ৩৭৪টি মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় রয়েছে। সব বিদ্যালয়ের বাল্যবিয়ের শিকার ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে তথ্য সংগ্রহ চলছে।

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, উপজেলায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্কুল ও মাদ্রাসার সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির এক বা একাধিক শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সিঙ্গারডাবরীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধু দশম শ্রেণিরই ১০ শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে।

পাবনা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, করোনাকালে বাল্যবিয়ে হয়েছে শতাধিক শিক্ষার্থীর। এ ছাড়া পারিবারিক ও শ্রম জীবনে জড়িয়ে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে আড়াইশ কিন্ডারগার্টেন ও ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বেকার হয়ে পড়েছেন অন্তত পাঁচ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

সদর উপজেলার কুঠিপাড়া এলাকার সালাম ও কালাম নামের দুই শিশু। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে কালাম আহেদ আলী বিশ্বাস উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে এবং কালাম শহরের জিসিআই ইনস্টিটিউশনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। এখন তারা গেঞ্জির দোকানের শ্রমিক।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, বিভাগে করোনাকালে দারিদ্র্য ও বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে ঝরে গেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। অনেকেই অভাব-অনটনের সংসারে সহযোগিতা করতে বেছে নিয়েছে কঠোর পরিশ্রমের পেশা। রাজশাহীর চরখিদিরপুরের আলোর পাঠশালায় শিক্ষার্থী ছিল ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৮০ জন কন্যাশিশু। তাদের মধ্যে অষ্টম ও দশম শ্রেণির ১০ জনের বিয়ে হয়ে গেছে করোনাকালে। পাঠশালার প্রধান শিক্ষক রেজিনা খাতুন জানান, অষ্টম শ্রেণির আয়েশা, খুশিসহ ৭ জনের এবং দশম শ্রেণির ছাত্রী বুশরা, মাসুরা, রাবেয়াসহ ১০ জনের বাল্যবিয়ে হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে শাওন। বয়স ৯ বছর। করোনার শুরুতে পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। ভ্যানচালক বাবা মন্টু মিয়া (৫০) অসুস্থ হলে পরিবারের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবার ভ্যান চালাতে শুরু করে শাওন। ভ্যান চালিয়ে ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়, তা দিয়ে চলছে সংসার। স্কুল খুললেও শাওনের আর স্কুলে ফেরা হয়নি।

বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়া সরকারি আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে মঙ্গলবার ৫ জন ক্লাসে এসেছে। অনুপস্থিত ৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রিয়া নামে ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। অথৈ নামে এক ছাত্রীর বাবা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় শহরে ভাড়া বাসা ছেড়ে সপরিবারে গ্রামে ফিরে গেছেন। এছাড়া গুরবিল ও সিদ্দিক নামে দু’জন পড়ালেখার পাশাপাশি অভাব-অনটনের কারণে নানা কাজে যুক্ত বলে বিদ্যালয়ে নিয়মিত নয়।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, সিংড়া উপজেলার কতুয়াবাড়ি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. রোকন। করোনার কারণে তাদের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা কর্মহীন হয়ে পড়েন। ফলে সংসারে সহায়তা করতে তাকে দিনমজুরি কাজ বেছে নিতে হয়েছে। বর্তমানে সে মাটি বহনকারী ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করছে। উপজেলার আনোয়ারা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাসিম মাহমুদ জানায়, সে করোনার মধ্যে পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ শুরু করেছে।

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান পলি খাতুন আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। বাবা শরিফুল কৃষিকাজ করে সংসার চালান। করোনার সময়ে তার বিয়ে দিয়েছে পরিবার। করোনাকালে অ্যাসাইনমেন্ট নেওয়ার জন্য শিক্ষকরা যোগাযোগ করলে জানতে পারেন মেয়েটি আর পড়বে না।

খুলনা ব্যুরো ও ডুমুরিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের আরাজি সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক মফিজুল ইসলাম বিশ্বাসের এক মেয়ে ও দুই ছেলে। বড় মেয়ে সুরাইয়া খাতুন ডুমুরিয়া মহিলা আলিয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নীলফামারী জেলার নুরুজ্জামান নামে এক কাঠমিস্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তার। মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘দেড় বছর মাদ্রাসা বন্ধ। ভালো ছেলে পাওয়ায় বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রহুল আমিন  বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে গড়ে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে। সুত্র সমকাল


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.